পোয়াংবাড়িতে বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণে গাছ কাটার অভিযোগ, ছয় মাস পেরিয়েও ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় ক্ষোভ জমির মালিকদের

বলরাম দেবনাথ, সাব্রুম, ০১ অক্টোবর || সাব্রুম মহকুমার পোয়াংবাড়ি ব্লকের শ্রীনগর এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণের কাজকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত জমির গাছ কেটে নেওয়ার পরও ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণের জন্য তাঁদের জমিতে থাকা রাবার, সেগুন, করাইসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ কেটে ফেলা হলেও প্রায় ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও বহু পরিবার ক্ষতিপূরণের টাকা পায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের পথে থাকা গাছগুলি কাটার প্রয়োজন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সেগুলি কেটে ফেলা হয়। গাছ কাটার সময় ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে দীর্ঘ ছয় মাস অতিবাহিত হলেও এখনও ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের বক্তব্য, বহু গাছ বছরের পর বছর ধরে তাঁদের জমিতে বেড়ে উঠেছিল। বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্প্রসারণের বৃহত্তর স্বার্থে গাছ কাটার বিষয়টি তাঁরা মেনে নিলেও নির্ধারিত সময়ে ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় বর্তমানে তাঁরা আর্থিক সমস্যার মুখে পড়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন জায়গায় কাটা গাছের অবশিষ্টাংশ ও পড়ে থাকা কাঠও এখনও দেখা যাচ্ছে।
ক্ষতিপূরণ প্রদানে বিলম্বের কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট পাওয়ারগ্রিড দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্টাফের সংখ্যা কম থাকায় ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের কবে নাগাদ তাঁদের প্রাপ্য অর্থ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।
এদিকে, ক্ষতিগ্রস্তদের প্রশ্ন—বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণের জন্য গাছ কেটে নেওয়ার পর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও কেন এখনও ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি? তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানের ব্যবস্থা করুক।
এখন দেখার বিষয়, স্টাফ সংকটের কারণে তৈরি হওয়া এই বিলম্ব কত দ্রুত কাটিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে তাঁদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*