নবারুণ চক্রবর্তী, সাব্রুম, ১৩ অক্টোবর || কন্যাশিশুদের অধিকার, শিক্ষা, সামাজিক সমতা ও ক্ষমতায়ন সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাব্রুমস্থিত পিএম শ্রী সাব্রুম গার্লস উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক সচেতনতামূলক সেমিনার ও পোস্টার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে কন্যাশিশুদের মর্যাদা রক্ষা, শিক্ষার প্রসার এবং সমাজের সর্বস্তরে সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার বার্তা তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে কন্যাশিশুদের শিক্ষার অধিকার, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা এবং ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষার গুরুত্বের মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। বর্তমান সমাজে কন্যাশিশুদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করতে তাদের সমান সুযোগ প্রদান এবং বিভিন্ন ধরনের সামাজিক বৈষম্য দূর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শিক্ষাই কন্যাশিশুদের আত্মবিশ্বাসী ও স্বনির্ভর করে তোলার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। শিক্ষার সুযোগ পেলে কন্যাশিশুরা নিজেদের প্রতিভা ও দক্ষতার বিকাশ ঘটিয়ে ভবিষ্যতে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই তাদের জন্য নিরাপদ, সহায়ক ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলাও অত্যন্ত জরুরি বলে কর্মসূচিতে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
সেমিনারের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে একটি পোস্টার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় ছাত্রীরা নিজেদের সৃজনশীল চিন্তাভাবনা ও শিল্পকলার মাধ্যমে কন্যাশিশুদের অধিকার, শিক্ষা, সামাজিক সমতা এবং ক্ষমতায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। তাদের আঁকা পোস্টারের মাধ্যমে কন্যাশিশুদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা এবং নারী-পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার বার্তা প্রকাশ পায়। এই প্রতিযোগিতা ছাত্রীদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক বিষয় সম্পর্কে নিজেদের ভাবনা প্রকাশের সুযোগ করে দেয়।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের মূল লক্ষ্য হলো কন্যাশিশুদের জীবনে বিদ্যমান সামাজিক বাধা ও বৈষম্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং তাদের অধিকার সুরক্ষায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে কন্যাশিশুরা যাতে সমান সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করা সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব।
সাব্রুম গার্লস উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই সচেতনতামূলক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কন্যাশিশুদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, শিক্ষার প্রসার এবং অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরা হয়। বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি সচেতন, সমতাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে কন্যাশিশুদের ভূমিকা এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা আরও একবার সামনে উঠে আসে।
