পুলিশি বাহাদুরি, লাঠির ঢিলে ভেঙ্গে দেওয়া হল নতুন গাড়ির গ্লাস, জনমনে ক্ষোভ

আপডেট প্রতিনিধি, বক্সনগর, ২৯ ডিসেম্বর || ফের আরেকবার প্রকাশ্যে এলো কলমচৌরা থানা প্রশাসনের অকর্মণ্যতা। জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক বারোটা নাগাদ কলমচৌড়া থানাধীন আড়ালিয়া এলাকায় রাস্তার পাশে যানবাহনের চেকিংয়ের উদ্দেশ্যে ডিউটিতে ছিল থানার আরক্ষা প্রশাসনের কর্মীরা। যেখানে যানবাহনে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই থাকলে এবং দ্বিচক্র বাইক আরোহীদের হেলমেট বা বৈধ নথিপত্র না থাকলে জরিমানা আদায় করা হচ্ছিল। ঠিক সেই সময়ে বিশালগড় থেকে বক্সনগরের পথে একটি নতুন সুইফট কার আসছিল। ফলে সেটাকে দাঁড়াতে সাইন দেয় আরক্ষা প্রশাসনের কর্মীরা। কিন্তু গাড়ির চালক কিছুটা দূরত্বে গিয়ে রাস্তার পাশ ধরে পার্কিং করতেই যেন সহ‍্য হচ্ছিলো না আরক্ষা কর্মীদের। দূর থেকে কর্তব্যরত জনৈক পুলিশ বা টিএসআর কর্মী তার লাঠি দ্বারা গাড়িটিতে ঢিল মারে এবং তাতেই গাড়ির গ্লাস গুলো ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। ঘটনায় হতবাক হয়ে গাড়ির চালক সংগ্রাম মিয়া। ফলে এমন বিষয়ে পুলিশকে জিঙ্গেস করতেই তারাও চুপ বনে যায়। ফলে গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে দেওয়ার ঘটনায় চালক যুবকের চিৎকার চেঁচামেচিতে ঘটনাস্থলে মুহূর্তেই প্রচুর লোক সমাগম হয়ে যায়। ফলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনতা পুলিশের এমন অপকর্মের ফলে এক প্রকার উত্তেজিত হয়ে পড়ে। ফলে কাউকে কিছু না বলে এমন উত্তেজিত মুহুর্ত থেকে কোনোক্রমে আরক্ষাকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে আত্মগোপন করে পিছু হটে। এদিকে গাড়ি চালকদের দাবি গত সোমবার রাতে নিজের কষ্টার্জিত জমানো টাকা দিয়ে সেই গাড়িটি কিনে ছিল। গাড়িটি কিনে আনার পরের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার ঘটনার দিনে গাড়িতে গ‍্যাস ভর্তি করানোর জন‍্য বিশালগড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বিশালগড় থেকে গ‍্যাস ভর্তি করে তার পুটিয়াস্থিত বাড়িতে ফেরার পথেই আড়ালিয়া নামক স্থানে পুলিশ এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। যেই ঘটনায় কলমচৌড়া থানার পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেয় সাধারণ মানুষ এবং অতি শিঘ্রই গাড়ির ক্ষতিপূরন দাবি করা হয়। তবে প্রশ্ন উঠছে পুলিশের এমন সক্রিয়তা নিয়ে। যেখানে প্রকাশ‍্য দিবালোকে প্রতিদিনে লক্ষ লক্ষ টাকার গরু কলমচৌড়া থানার নাকের ডগা দিয়ে বাংলাদেশে পাচার করা হয়, সেই ক্ষেত্রে তো পুলিশ দেখেও না দেখার ভাব ধরে কুম্ভনিদ্রায় আচ্ছন্ন থাকছে। কিন্তু এদিমের ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব পালনের নামে এমন ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*