নির্মম বাস্তবতা: দুই হাত ছাড়া জন্ম নিল কন্যা শিশু, কান্নায় ভেঙে পড়লেন বাবা-মা

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ২৭ জুলাই || “সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে কেহ নাই”—এই বাস্তবতাকেই যেন নতুন করে স্মরণ করাল ধলাই জেলার গন্ডাছড়া মহকুমার এক মর্মান্তিক ঘটনা। জন্মের মুহূর্তেই চমকে দিল এক নবজাতিকা, যার দুইটি হাতই অনুপস্থিত।
ঘটনাটি ঘটেছে ডুম্বুরনগর ব্লকের নারায়ণপুর এডিসি ভিলেজের চৌকিদারপাড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দা সুমলজয় ত্রিপুরা ও বনমালা ত্রিপুরার কোলজুড়ে শনিবার গভীর রাতে আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিট নাগাদ গন্ডাছড়া মহকুমা হাসপাতালে জন্ম নেয় এক কন্যা সন্তান। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরই চিকিৎসকরা দেখতে পান, নবজাতিকার দুটি হাতই নেই। ঘটনায় হতবাক চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে শিশুটির পরিবার।
রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক তথা গন্ডাছড়া মহকুমা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ইনচার্জ ডা. চিরঞ্জিত দাস প্রসবকালীন পুরো প্রক্রিয়াটি তত্ত্বাবধান করেন। তিনি জানান, এটি একটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা। প্রসবের পরপরই বিষয়টি জানানো হয় মহকুমা শাসক চন্দ্রজয় রিয়াং এবং ডুম্বুরনগর সিডিপিও-কে। ঘটনাটি ইতিমধ্যেই জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উচ্চমহলে জানানো হয়েছে।
ডাঃ চিরঞ্জিত দাস বলেন, “এই ধরনের শারীরিক বিকাশজনিত অস্বাভাবিকতার পিছনে অনেক কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে গর্ভাবস্থায় পুষ্টিহীনতা, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা জেনেটিক সমস্যাও অন্যতম। তাই প্রত্যেক গর্ভবতী মহিলাকে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।”
হাতছাড়া শিশুটিকে ঘিরে হতবিহ্বল বাবা-মা। বারবার মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে অশ্রুপাত করছেন তারা। সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই চিকিৎসক জানান, শিশুটির চিকিৎসা, শিক্ষাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই খবরে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন নবজাতিকার পরিবার ও পরিজনেরা।
এই বিরল ও হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ধলাই জেলার চিকিৎসা পরিকাঠামো ও সামাজিক সচেতনতার দিক থেকেও এক বড় প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল। এখন দেখার, কতটা দ্রুত এবং কার্যকরী পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*