এক বছর ধরে অভিযান শূন্য, তবুও সীমান্তে ৭ বাংলাদেশি আটক—চাম্পাহাওর থানাকে ঘিরে রহস্য

গোপাল সিং, খোয়াই, ২২ সেপ্টেম্বর || খোয়াই জেলার চাম্পাহাওড় থানা এলাকায় বিগত এক বছর যাবত নেই কোনো নেশা বিরোধী অভিযান! আশ্চর্যজনক হলেও ঘটনা সত্যি! জনগণ অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলছেন, চাম্পাহাওর থানাকে শীঘ্রই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করার আবেদন জানাবেন জনগণই।
চাম্পাহাওর থানা এলাকার ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযোগ, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এলাকায় কার্যত কোনো নেশা বিরোধী অভিযান নেই। অথচ চাম্পাহাওর থানা এলাকার আশারামবাড়ি গ্রাম হয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বাংলা মদ ও অন্যান্য নেশাজাত সামগ্রী পাচার হয়ে চলেছে বলে দাবি তুলেছেন সাধারণ মানুষ।
জনগণের অভিযোগ, চাম্পাহাওর থানা এখন নেশার সবচেয়ে বড় করিডোরে পরিণত হয়েছে। আশারামবাড়ি হয়ে প্রতিদিন পারাপার হচ্ছে কোটি টাকার নেশার কারবার, আর এ থেকে চলছে কমিশনের বড় খেলা। অন্যদিকে, খোয়াই থানার অন্তর্গত সুভাষপাড়াসহ অন্যান্য থানায় পুলিশ দিনরাত অভিযান চালালেও চাম্পাহাওরে তেমন কোনো তৎপরতা নেই। ফলে খোয়াই শহরে প্রবেশ করা নেশাদ্রব্যের অন্তত ৯৫ শতাংশই আসে চাম্পাহাওর থানা এলাকার আশারামবাড়ি সীমান্ত দিয়ে। এদিকে, অভিযোগের মাঝেই রবিবার রাত আনুমানিক ৭টার সময় নামকাওয়াস্তে অভিযান চালায় পুলিশ। আশারামবাড়ি আন্তর্জাতিক সীমান্তের সোমবাইরা বাজার এলাকা থেকে একটি অটোগাড়িতে থাকা ৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে চাম্পাহাওর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
কিন্তু জনগণের মতে, প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশী নাগরিক সীমান্ত অতিক্রম করে ত্রিপুরায় প্রবেশ করছে। কিন্তু এই ৭ জন বাংলাদেশী ধরা পড়ার পেছনে অন্য কোনো রহস্যের ইঙ্গিত পাচ্ছেন জনগণ।
এদিকে স্থানীয়দের বক্তব্য, সীমান্তবর্তী এই এলাকা দিয়ে প্রতিদিন যেভাবে বাংলা মদ পাচার হচ্ছে, তা বন্ধে পুলিশের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। খোয়াই জুড়ে নেশা বিরোধী আন্দোলনে যখন জনসচেতনতা তৈরি হচ্ছে, তখন চাম্পাহাওর থানার নিষ্ক্রিয়তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন তুলছে সাধারণ মানুষ।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*