২৫ বছরের মায়ের প্রাণ বাঁচাতে মানবিক উদ্যোগ, গন্ডাছড়ায় অসহায় সুস্মিতার পাশে ব্যবসায়ী সমাজ, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আর্জি

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ২৩ নভেম্বর || মাত্র ২৫ বছর বয়সেই জীবন-মৃত্যুর লড়াই লড়ছেন গন্ডাছড়া মহকুমার বাসিন্দা দুই সন্তানের মা সুস্মিতা সেন। দু’টি কিডনিই সম্পূর্ণরূপে অকেজো হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই শয্যাশায়ী তিনি। চিকিৎসকদের মতে, অবিলম্বে কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া তাঁকে বাঁচানো অসম্ভব। কিন্তু অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন অন্তত ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা, যা দিনমজুর পরিবারের সাধ্যের বহু বাইরে।
সুস্মিতার স্বামী স্থানীয় একটি মিষ্টির দোকানের কর্মচারী। অল্প বেতনে কোনোমতে চলে যেত সংসার। কিন্তু স্ত্রীর অসুস্থতার পর প্রতি মাসে ৫০–৬০ হাজার টাকা ওষুধ ও ডায়ালাইসিসের খরচে কার্যত ভেঙে পড়েছে পরিবারটি। অসহায় স্বামীর কথায়, “দুটো বাচ্চার মুখে খাবার দেব নাকি চিকিৎসার টাকা জোগাড় করব— বুঝতে পারছি না। টাকার অভাবে চোখের সামনে স্ত্রীকে হারাতে বসেছি।”
এই করুণ পরিস্থিতিতে সুস্মিতার পাশে দাঁড়িয়েছে গন্ডাছড়া বাজার কমিটি ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজ। রবিবার সন্ধ্যায় বাজারের একটি দোকানে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে সুস্মিতার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় নগদ অর্থ, ফলমূল, মিষ্টি ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ ব্যবসায়ী রজন সাহা, বাজার কমিটির সেক্রেটারি তরুণ দেবনাথ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গৌরাঙ্গ দাস-সহ অন্যান্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তাঁদের বক্তব্য, “মাত্র ২৫ বছরের এক অসহায় মায়ের চিকিৎসা অর্থের অভাবে আটকে থাকবে— এটা মানা যায় না। সাধ্যমতো সাহায্য করেছি, কিন্তু আরও অনেক বড় সহযোগিতা প্রয়োজন।”
বাজার কমিটির সেক্রেটারি তরুণ দেবনাথ জানান, তাঁরা আরও বৃহত্তর পরিসরে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিচ্ছেন। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে যাতে দ্রুত অর্থ সংগ্রহ করে সুস্মিতার চিকিৎসা শুরু করা যায়।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। তাঁদের বিশ্বাস, মানবিক মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি জানলে অবশ্যই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন।
গন্ডাছড়া বাজার কমিটি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে— বিশেষত বিত্তশালী ও সহৃদয় ব্যক্তিদের— আহ্বান জানিয়েছে এই সংকটে পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
একটি ছোট সহযোগিতাই হয়তো বাঁচিয়ে দিতে পারে দুই শিশুর মায়ের জীবন।
সাহায্য করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা সরাসরি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা গন্ডাছড়া বাজার কমিটির সদস্যদের মাধ্যমেও অর্থ পৌঁছে দিতে পারেন।
অসহায় এক মায়ের জীবন বাঁচাতে সমাজ কতটা মানবিক— এখনই তার প্রমাণ দেওয়ার সময়।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*