ত্রিপুরায় গাঁজা চাষে বন দপ্তরের চরম ব্যর্থতা; খোদ বনমন্ত্রীর দপ্তরের অধীন বনাঞ্চলই এখন গাঁজা চাষের ‘সেফ ল্যান্ড’!

গোপাল সিং, খোয়াই, ২৩ নভেম্বর || ত্রিপুরার প্রায় ৯০ শতাংশ অবৈধ গাঁজা চাষ চলছে বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মার দপ্তর — বন দপ্তরের বনাঞ্চলেই! এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলছেন সাধারণ মানুষ। বনদপ্তরের অধীন বনাঞ্চলই এখন গাঁজা চাষের ‘সেফ ল্যান্ড’ বলে দাবি জনগণের।
আশ্চর্যের বিষয়, এই বিপুল পরিমাণ মাদকচাষের কথা জেনেও বনদপ্তরের কোনো তৎপরতা নেই। বরং কোন নতুন দপ্তর নিজের আওতায় আনা যায়, সেই হিসেব কষতেই তিনি বেশি ব্যস্ত—এমন কটাক্ষ এখন প্রকাশ্যে ঘুরছে রাজনৈতিক মহল থেকে জনমানসে। ফলে প্রশ্ন উঠছে— ত্রিপুরার বনাঞ্চলেই হয়তো দেশের অন্যতম বৃহৎ গাঁজা চাষের ঘটনা ঘটছে, তারপরও বনমন্ত্রী নিশ্চুপ কেন?
এদিকে, একই সময়ে পুলিশ দেখাল সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃশ্য—উত্তর কলমচৌড়ায় নজিরবিহীন গাঁজা বিরোধী অভিযান, ধ্বংস ২ লক্ষ ৫০ হাজার গাঁজা গাছ। মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার “নেশামুক্ত ত্রিপুরা” উদ্যোগের অংশ হিসেবে রবিবার ভোর থেকে উত্তর কলমচৌড়ায় এক বৃহৎ মাদকবিরোধী অভিযান চালায় কলমচৌড়া থানার পুলিশ। থানার ইনচার্জ অরূপ দেববর্মার নেতৃত্বে পুলিশ, টিএসআর, বিএসএফ ও সিআরপিএফের সমন্বয়ে গঠিত শতাধিক সদস্যের বাহিনী সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টানা অভিযান চালায়।
উত্তর কলমচৌড়া, বড়মুড়া, বাগানবাড়ি, পাষানীয়া ও ট্যাক্কা মুড়া—পাঁচটি এলাকা জুড়ে ২২টি ভিন্ন ফ্লটে মোট প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার গাঁজা গাছ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়। অভিযানের সময় শত শত স্থানীয় গাঁজা চাষি রাস্তা আটকে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও তাতে কোনো লাভ হয়নি। পাষানীয়া এলাকার গভীর বনেও পুলিশ টানা অভিযান চালিয়ে বৃহৎ মাদকক্ষেত নষ্ট করে দেয়। জানা গেছে, কয়েক দিনের মধ্যেই এসব গাঁজা পূর্ণ ফলন দিত—তার আগেই পুলিশের দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপে গোটা চক্রের বড়সড় ক্ষতি হয়।
ইনচার্জ অরূপ দেববর্মা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নেশামুক্ত সমাজ গড়তে এই ধরনের অভিযান চলবে অব্যাহতভাবেই। প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়—পুলিশ যখন জলন্ত আগুনের মতো মাদকচক্র ভাঙছে, তখন বন দপ্তর কেন ঘুমিয়ে রয়েছেন? ত্রিপুরার জঙ্গল কি তবে অবৈধ গাঁজার নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠছে দপ্তরের নীরব সহযোগিতায়? জনমনে ক্ষোভ ও সন্দেহ উভয়ই বাড়ছে দিনকে দিন।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*