ত্রিপুরায় প্রথমবার বৃহৎ পরিসরে পেঁয়াজ চাষ, কৃষিতে আত্মনির্ভরতার নতুন দিগন্ত খুলল

গোপাল সিং, খোয়াই, ০২ ডিসেম্বর || ত্রিপুরা কৃষি মহাবিদ্যালয়ের উদ্যোগে রাজ্যে প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে পেঁয়াজ চাষের সূচনা হয়েছে, যা কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার মহাকরণে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, অধ্যাপকবৃন্দ ও কৃষি দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা যে পেঁয়াজের নমুনা উপস্থাপন করেন, তা শুধু ফলনের সাফল্যই নয়, ত্রিপুরার কৃষি–অর্থনীতিতে সম্ভাবনার নতুন বার্তা বহন করছে বলে মন্তব্য করেন কৃষিমন্ত্রী রতন লাল নাথ। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ রাজ্যের কৃষিভিত্তিক আত্মনির্ভরতার বড় পদক্ষেপ।
কৃষি মহাবিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে আটটি জেলার প্রায় এক হাজার কৃষক ভিমা সুপার ও এডিআর জাতের পেঁয়াজের চারা রোপণ করেছেন। চাষাবাদের প্রতিটি ধাপে প্রযুক্তিগত সহায়তা, মাঠ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত দিকনির্দেশনা দিচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি, যাতে কৃষকরা নতুন এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগে নির্ভরযোগ্য ফল পান। কৃষি মহাবিদ্যালয়ের সঙ্গে চাষিদের এই সহযোগিতা রাজ্যের কৃষিক্ষেত্রে গবেষণা নির্ভর উৎপাদনের পথ আরও সুগম করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন মোহনপুর কৃষি মহকুমায় কৃষকদের হাতে কুফরি হিমালিন জাতের আলুর বীজ বিতরণ করেন কৃষিমন্ত্রী রতন লাল নাথ। তিনি জানান, এই বীজ শুধু ফলনের প্রত্যাশাই নয়, বরং কৃষকদের কাছে ভবিষ্যতের ভরসার প্রতীক। তাঁর বিশ্বাস, এই জাতের আলু থেকে কৃষকরা ভালো ফলন পাবেন এবং তাঁদের কৃষিজ আয়ের বিস্তারে যুক্ত হবে নতুন সম্ভাবনা। মোহনপুরের পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য মহকুমাতেও পর্যায়ক্রমে এই বীজ পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে প্রতিটি কৃষক সমান সুযোগ পান। একই সঙ্গে কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে কৃষি যন্ত্রপাতি, ব্লক লেভেল ফার্মার অ্যাওয়ার্ড এবং কৃষক বন্ধু এপয়েন্টমেন্ট, যা কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের কৃষিজ উৎপাদন ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ভারত থেকে আমেরিকা, চিন, ইউরোপ ও জাপানে মাছ রপ্তানি হয়; শ্রীলঙ্কা, ওমান, মালদ্বীপ ও কাতারে ডিম রপ্তানি করা হয়; সৌদি আরব, আমেরিকা, সিঙ্গাপুর ও ভুটানে রপ্তানি হয় দুধ। প্রতিবেশী বাংলাদেশে রপ্তানি করা হয় চাল, গম, চিনি, আদা, রসুন, পেঁয়াজ সহ বিভিন্ন কৃষিজ পণ্য। পাকিস্তানে রপ্তানি করা হয় তুলা, মশলা, বাসমতী চাল, আম, কলা, আদা, রসুন ও আলু। তাঁর দাবি, ত্রিপুরার কৃষি যদি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে শক্ত ভিত গড়ে তোলে, তবে ভবিষ্যতে রাজ্যও কৃষিজ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিকারক হিসেবে উঠে আসতে পারে।
মন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের লক্ষ্য কৃষকদের শক্তিশালী করা, বাজার ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করা এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে পুষ্টশীল ভিত্তি প্রদান করা। তাঁর কথায়, মাটির গন্ধে লুকিয়ে আছে উন্নয়নের আসল গল্প, আর সেই গল্প লিখছেন রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রামের পরিশ্রমী কৃষকেরা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*