বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ০৭ ডিসেম্বর || শান্তিরবাজার থানার পুলিশের অভিযোগ, আইন রক্ষার স্বার্থে এবং দুর্ঘটনা রোধে অভিযান চালাতে গিয়ে তারা শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছ থেকে বারবার অসহযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে মদ্যপ অবস্থায় আটক ব্যক্তিদের মেডিকেল পরীক্ষায় চিকিৎসকদের অনীহা পুলিশের কাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে বলে দাবি থানার কর্তাদের।
শান্তিরবাজার মহকুমায় সাম্প্রতিক সময়ে দুর্ঘটনার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মদ্যপ অবস্থায় যানবাহন চালানোর কারণেই দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানায় পুলিশ। এ অবস্থায় আইন প্রয়োগের জন্য সন্দেহভাজনদের মেডিকেল পরীক্ষা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু সেই জায়গাতেই দেখা দিচ্ছে সমস্যার।
শনিবার রাতে মদ্যপ অবস্থায় বাইক চালানোর অভিযোগে এক যুবককে আটক করে থানায় আনে পুলিশ। নিয়ম অনুযায়ী মেডিকেল পরীক্ষার জন্য তাকে শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত এক মহিলা চিকিৎসক পুলিশকে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ। পরে তিনি যুবকের মেডিকেল ফিটনেস রয়েছে বলে লিখিত দেন—যদিও যুবকটি নিজেই স্বীকার করেছে যে সে একটি অনুষ্ঠান থেকে মদ্যপান করে বাইক চালিয়ে ফিরছিল।
পরবর্তী সময়ে পুলিশ একই যুবককে হাসপাতালে অপর এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি শারীরিক বিভিন্ন দিক পরীক্ষা করে লিখিতভাবে জানান যে যুবকটি মদ্যপ অবস্থায় রয়েছে। একই ব্যক্তির মেডিকেল পরীক্ষায় দুই চিকিৎসকের বিপরীতমুখী রিপোর্টে স্বভাবতই বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ পুলিশ।
এ বিষয়ে শান্তিরবাজার থানার সেকেন্ড ওসি, এসআই সমীর বিশ্বাস জানান, “মদ্যপান অবস্থায় কাউকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা প্রায়শই মেডিকেল করতে অনীহা প্রকাশ করেন। বিষয়টি এমএস জে.এস. রিয়াংকে জানানো হয়েছে। তবুও পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “একই ব্যক্তিকে দুইবার মেডিকেল করতে গেলে পুলিশের অন্যান্য দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয়। চিকিৎসকরা সহযোগিতা না করলে আইন রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।”
শনিবার রাতের ঘটনায় পুলিশের অভিযোগের সত্যতাও প্রতীয়মান হয়েছে। দুই চিকিৎসকের ভিন্ন রিপোর্টে পরিষ্কার যে হাসপাতালে সহযোগিতার অভাব রয়েছে।
এই অবস্থায় চিকিৎসকদের সহযোগিতা কামনা করেছে শান্তিরবাজার থানা।
