গোপাল সিং, খোয়াই, ২৯ ডিসেম্বর || উত্তর জেলার চুরাইবাড়ি ও কদমতলা থানা এলাকায় চুরির উপদ্রব চরমে পৌঁছেছে। কদমতলা থানাধীন বাঘন গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝেরঝেরি ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুলতান আহমেদের আগর বাগান থেকে পরপর দু’দিনে মোট বাইশটি দামী আগর গাছ কেটে নিয়ে যায় চোরের দল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম রাতে ছয়টি মূল্যবান আগর গাছ চুরি হওয়ার পর বাগান মালিক কদমতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগের পরও পুলিশি তৎপরতা চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ। এর সুযোগ নিয়েই পরদিন রাতে একই কায়দায় একই বাগান থেকে আরও ষোলটি দামী আগর গাছ কেটে নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। চুরি যাওয়া গাছগুলির বাজারমূল্য আনুমানিক আট থেকে দশ লক্ষ টাকা বলে দাবি বাগান মালিকের।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নামমাত্র তদন্ত করে ফিরে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ লেখা পর্যন্ত চুরাইবাড়ি ও কদমতলা—উভয় থানার পুলিশই চোরদের কোনও হদিস করতে পারেনি। তবে এলাকাবাসীদের দৃঢ় ধারণা, এই চুরির ঘটনার পিছনে স্থানীয় কোনও চোরচক্রই সক্রিয় রয়েছে।
প্রায় প্রতিরাতেই কোথাও না কোথাও নিশি কুটুম্বের দল হাত সাফাই চালাচ্ছে। একদিন চুরাইবাড়ি, পরদিন কদমতলা—দুটি থানা এলাকাজুড়েই যেন চোর আর পুলিশের লুকোচুরি খেলা জমে উঠেছে। লাগাতার চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
গত দু’দিন আগে চুরাইবাড়ি থানাধীন শ্মশান কালীবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় সন্ধ্যা নামতেই তিনটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পরদিন রাতে একই ধরনের চুরির ঘটনা সামনে আসে কদমতলা থানা এলাকায়।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, পুলিশ চাইলে অল্প সময়ের মধ্যেই এই চোরচক্রকে গুটিয়ে দিতে পারে। কিন্তু রাতকালীন টহল ও নজরদারি জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা দুই-ই বিপন্ন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
