গোপাল সিং, খোয়াই, ১৮ জানুয়ারি || আমরাই প্রথম সংবাদ প্রকাশ করেছিলাম—খোয়াই জেলা শাসকের কার্যালয়, আবগারি দপ্তর ও মহিলা থানা থেকে মাত্র ২০০ মিটারের মধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে দেশী মদের রমরমা বাণিজ্য চলছে। প্রায় তিন দশক ধরে অফিসটিলা রোডে, ট্রাফিক পোস্ট সংলগ্ন এলাকায় সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত অবাধে দেশী মদ বিক্রি হলেও এতদিন আবগারি দপ্তর কিংবা পুলিশ প্রশাসনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
তিন দিন পূর্বে ১৬ লিটার দেশী মদ সহ রঞ্জিত দাস নামে ঐ কারবারীকে পুলিশ তুলে আনে। তার ঠিকানা মাষ্টার পাড়া।
বারবার সংবাদ মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পরও আবগারি দপ্তরের পক্ষ থেকে তেমন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তরফে কিছুটা নড়াচড়া লক্ষ্য করা গেলেও, সেটিকে অনেকেই ‘মান বাঁচানোর চেষ্টা’ বলেই দেখছেন। কারণ যেখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবাধে দেশী মদ বিক্রি হয়, সেখানে পুলিশের অভিযানে মাত্র ১৬ লিটার দেশী মদ আটক হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও রহস্য ঘনীভূত হয়েছে এই ঘটনায়—ঘটনাটি তিন দিন আগে ঘটলেও সংবাদমাধ্যমে এই খবর পৌঁছাতে দেরি হয়েছে দুই থেকে তিন দিন। প্রশ্ন উঠছে, কেন এই সময় ধরে বিষয়টি চাপা রাখা হলো? কার স্বার্থে এই নীরবতা—এ প্রশ্ন এখন জনমানসে ঘুরপাক খাচ্ছে।
একইসঙ্গে তীব্র প্রশ্ন উঠছে আবগারি দপ্তরের ভূমিকা নিয়েও। শহর ও শহরতলী জুড়ে অবৈধ মদ ও দেশী মদের বিক্রি প্রকাশ্য হলেও, বছরের পর বছর ধরে সেই মাদক ব্যবসা চোখের সামনে ফুলেফেঁপে উঠলেও আবগারি দপ্তরের কর্মকর্তারা কার্যত নিষ্ক্রিয় বলেই অভিযোগ তুলছেন সাধারণ মানুষ। জনতার অভিযোগ, জনগণের টাকায় বেতন নিয়ে কিছু কর্মকর্তা ‘ম্যানেজ’-এর আশ্রয়ে নিশ্চিন্তে বহাল তবিয়তে দিন কাটাচ্ছেন।
এমন পরিস্থিতিতে খোয়াইয়ে আদৌ আবগারি দপ্তরের কার্যকর অস্তিত্ব আছে কি না, তা নিয়েও জনমনে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কারণ খোয়াই জুড়ে মাদকবিরোধী কোনো দৃশ্যমান অভিযান বা ধারাবাহিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষ দেখতে পাচ্ছেন না বলেই মত স্থানীয়দের। সব মিলিয়ে, প্রশাসনিক ভবনের অদূরেই দীর্ঘদিন ধরে চলা মদের রমরমা বাণিজ্য শুধু আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নই নয়, প্রশাসনিক সদিচ্ছা ও দায়িত্ববোধ নিয়েও বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।
