প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় নাবালিকার জীবন ধ্বংসের অভিযোগ, প্রতিবাদী মহিলাদেরই হয়রানির অভিযোগে উত্তাল এলাকা

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ২৭ মে || এক নাবালিকার জীবন ধ্বংসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গন্ডাতৈসা মহকুমার মনোরঞ্জন দাস পাড়া এলাকা। বুধবার এলাকার বহু মহিলা একযোগে মহকুমা শাসকের দপ্তরে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। মহকুমা শাসক অনুপস্থিত থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের হাতে অভিযোগপত্র তুলে দেওয়া হয়।
অভিযোগ, মাত্র ১৭ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে এলাকার এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির মদতে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থাতেই বিয়ে দেওয়া হয়। যা সরাসরি বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০০৬-এর পরিপন্থী। পরবর্তীতে সেই বিবাহ টেকেনি এবং স্বামীর বাড়ি থেকে ফিরে আসার পর ওই নাবালিকা মাদকাসক্তি ও অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নাবালিকার বৃদ্ধ বাবা ও বাকপ্রতিবন্ধী মায়ের অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র তাকে ব্যবহার করছে। এমনকি মেয়েটির বর্তমান পরিস্থিতির পেছনেও সেই রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার জেরে গন্ডাছড়া থানার ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অভিযোগকারী মহিলাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা থানায় লিখিত ও মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়ে এলেও পুলিশ কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং “সালিশি করে মিটিয়ে নেওয়ার” পরামর্শ দিয়েই দায় এড়ানো হয়েছে।
তবে সম্প্রতি পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এবার উল্টো অভিযোগকারী মহিলাদেরই নানা ভাবে চাপ ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। তাঁদের দাবি, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার চাপে পড়েই থানা প্রতিবাদী মহিলাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে।
এলাকার মহিলাদের বক্তব্য, তাঁরা শুধুমাত্র এলাকার নিরাপত্তা ও সন্তানদের ভবিষ্যতের স্বার্থে প্রতিবাদ করেছেন। অথচ এখন তাঁদেরই দোষী প্রমাণ করার অপচেষ্টা চলছে।
অভিযোগকারীরা দাবি জানিয়েছেন, মহকুমা প্রশাসন, গন্ডাছড়া থানা এবং চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (CWC) যৌথ উদ্যোগে অবিলম্বে নাবালিকাকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয় ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি মাদকমুক্তি কেন্দ্র বা সরকারি সেফহোমে পাঠিয়ে পুনর্বাসনের দাবিও জানানো হয়েছে।
একইসঙ্গে, নাবালিকার জীবন ধ্বংসের পেছনে জড়িত অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী। অভিযোগকারী মহিলাদের বিরুদ্ধে থানার হয়রানিমূলক পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করারও দাবি জানানো হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই বিষয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*