সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে জাতীয় সড়কের দু’পাশের জবরদখল উচ্ছেদের দাবি: পশ্চিম ত্রিপুরার জেলাশাসককে চিঠি বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার

গোপল সিং, খোয়াই, ০৩ জুলাই || আগরতলা-খোয়াই জাতীয় সড়কের দু’পাশে গজিয়ে ওঠা অবৈধ স্থায়ী নির্মাণ ও জবরদখলকারীদের দ্রুত উচ্ছেদ করতে এবার কড়া পদক্ষেপের দাবি জানালেন তিপ্রামথা পার্টির রামচন্দ্রঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। ভারতের মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশিকাকে মান্যতা দিয়ে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার অন্তর্গত জাতীয় সড়কের দু’দিকের সমস্ত বেআইনি দখলদারদের হঠানোর আর্জি জানিয়ে ১লা জুলাই পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক-এর কাছে একটি আধিকারিক চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি।
জেলাশাসকের দপ্তরে জমা পড়া ওই চিঠিতে বিধায়ক সাফ জানিয়েছেন যে, জাতীয় সড়কের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে যেভাবে সরকারি জমি গ্রাস করা হচ্ছে, তা বড়সড় সড়ক দুর্ঘটনার পথ প্রশস্ত করছে।
জেলাশাসককে পাঠানো চিঠিতে বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা অভিযোগ করেন, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলাধীন জাতীয় সড়কের অন্তর্গত এক বিশাল পরিমাণ মূল্যবান সরকারি জমি কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থে বেআইনিভাবে কব্জা করে রেখেছে। আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জাতীয় সড়কের দু’পাশেই পাকা ও স্থায়ী নির্মাণ গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে রমরমিয়ে চালানো হচ্ছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক দোকান, চায়ের দোকান, মোটর গ্যারেজ, বড় বড় শোরুম এবং গাড়ি ধোয়ার গ্যারেজ।
এর ফলে প্রতিদিন ওই সমস্ত এলাকায় চালক, আরোহী এবং ক্রেতাদের এক বিশাল সমাগম ঘটছে। ব্যস্ততম জাতীয় সড়কের ওপর এই অনিয়ন্ত্রিত ভিড়ের কারণে যেকোনো মুহূর্তে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইতিপূর্বেও এই ধরণের অবৈধ নির্মাণ ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বেশ কিছু প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি চিঠিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
চিঠিতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগরতলা-খোয়াই জাতীয় সড়কের লেম্বুছড়া থেকে শুরু করে সুবলসিং পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় এই বেআইনি জবরদখলের দাপট সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে কামালঘাট, ফটিকছড়া, মোহনপুর, তারানগর এবং মোরেসো সংলগ্ন এলাকায় সড়কের দুই ধার কার্যত জবরদখলকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
শুধু তাই নয়, এই সমস্ত অবৈধ দখলদাররা পথচলতি সৌন্দর্যায়ন ও পরিবেশ রক্ষার জন্য রোপণ করা গাছের সুরক্ষার্থে ব্যবহৃত লোহার খাঁচাগুলি উপড়ে ফেলেছে এবং নষ্ট করে দিয়েছে। পাশাপাশি সড়ক সুরক্ষার জন্য প্রশাসনের বসানো লোহার ব্যারিকেডগুলিরও ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দণ্ডনীয় অপরাধ।
এই সামগ্রিক বিপজ্জনক পরিস্থিতির হাত থেকে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে সুপ্রিম কোর্টের সদয় নির্দেশ মোতাবেক অবিলম্বে এই সমস্ত অবৈধ জবরদখলকারীদের উচ্ছেদ করার জন্য পশ্চিম ত্রিপুরার জেলাশাসকের কাছে জরুরি ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা।
চিঠির প্রতিলিপি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে। জাতীয় সড়কের নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বাস্তবায়নে বিধায়কের এই সময়োপযোগী ও কড়া পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার ভুক্তভোগী নিত্যযাত্রী ও সচেতন নাগরিক মহল। এখন দেখার, এই চিঠির পর জেলা প্রশাসন কবে নাগাদ উচ্ছেদ অভিযানে নামে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*