গোপল সিং, খোয়াই, ১৬ জুলাই || খোয়াই ও ধলাই জেলাকে রাজধানীর সাথে সংযোগকারী একমাত্র প্রধান জীবনরেখা সুবলসিং পাহাড়ে জাতীয় সড়কের চিত্র এখন চরম দুরবস্থার এক জীবন্ত দলিল। কর্দমাক্ত, খানাখন্দে ভরা এবং বিপদসংকুল এই অর্ধসমাপ্ত জাতীয় সড়কটি বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য আক্ষরিক অর্থেই এক ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রতিবাদে এবং সড়ক সংস্কারের দাবিতে খোয়াই ও ধলাই জেলার বাসিন্দারা নিজেদের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একযোগে ‘সোশাল বিপ্লব’ শুরু করেছেন। জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে যে এই রাস্তা দিয়ে আসবেন কিনা। আর এই ‘সোশাল বিপ্লবে’ সাধারণ জনগণের পাশাপাশি সমানভাবে শামিল হয়ে রাজ্য সরকার তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহার দৃষ্টি আকর্ষণের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন শাসক জোটের শরিক দল ‘তিপ্রামথা পার্টি’র জনপ্রিয় তথা রামচন্দ্রঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা।
রামচন্দ্রঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা নিজেই এই ভগ্ন ও কর্দমাক্ত সড়কের একজন নিত্যদিনের ভুক্তভোগী যাত্রী। প্রতিদিন এই কাদা-জলে ভরা মরণফাঁদ মাড়িয়েই তাঁকে নিজের নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছতে হয় এবং সাধারণ মানুষের দরবারে ছুটে যেতে হয়। এর আগেও তিনি জাতীয় সড়কের বেহাল দশা সংস্কার এবং অসম্পূর্ণ নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহাকে আনুষ্ঠানিক চিঠি লিখে জরুরি হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি এখনও তথৈবচ।
এদিকে এই খোয়াই-আগরতলা ভায়া সুবলসিং জাতীয় সড়ক প্রকল্পের অসম্পূর্ণতার নেপথ্যে উঠে এসেছে চরম অনিয়ম ও খামখেয়ালিপনার খতিয়ান। অভিযোগ, এখন পর্যন্ত ৪ থেকে ৫ জন ঠিকাদার এই জাতীয় সড়কের নির্মাণ কাজ মাঝপথে ফেলে রেখে রাজ্য থেকে পালিয়ে গেছে বর্তমানে নতুন একজন ঠিকাদার কাজে হাত লাগালেও, টানা প্রবল বর্ষণের কারণে নির্মাণ কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। খোয়াই থেকে আগরতলা অভিমুখে যাওয়ার এক ঘণ্টার রাস্তা পার হতে এখন গাড়িগুলির সময় লাগছে দ্বিগুণেরও বেশি—প্রায় দুই ঘণ্টার ওপরে। রাস্তার দোহাই দিয়ে প্রাইভেট গাড়িগুলি যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, অন্যান্য যাত্রীবাহী গাড়িগুলি বেলা সাড়ে তিনটার পর থেকে যাত্রীদের কাছ থেকে সরাসরি প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে। ফলে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের পকেট কাটার সাথে সাথে নিত্যদিনের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
সরকারের সদর্থক পদক্ষেপের অভাবে অসন্তুষ্ট বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা তাঁর ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্ট শেয়ার করেছেন। তিনি লিখেছেন: “খোয়াই এবং আগরতলা অনেক দূরে—সুবলসিং থেকে বেলফং পর্যন্ত, এখানকার মানুষের সমস্যা ও দুর্ভোগ অত্যন্ত তীব্র। আমি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে লিখিতভাবে চিঠি পাঠিয়েছি এবং ত্রিপুরা বিধানসভার গত অধিবেশনেও বিষয়টি নিয়ে জোরালো আলোচনার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এখনও পর্যন্ত সরকারের তরফ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি।”
সরকারের এই দীর্ঘস্থায়ী উদাসীনতায় কোনো রাস্তা না পেয়ে, শেষ পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে এই মরণফাঁদ থেকে মুক্তির উপায় ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে খোদ সাধারণ জনগণের কাছেই খোলাখুলি পরামর্শ ও মতামত চেয়েছেন বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। এখন দেখার, জনপ্রতিনিধি এবং জনগণের জোড়া অসন্তোষ প্রকাশের পর ঘুম ভাঙে কি না জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য প্রশাসনের।
