গোপল সিং, খোয়াই, ১৯ জুলাই || শেষ রক্ষা আর হলো না। অবশেষে ফুরিয়ে গেল বাবার জীবন বাঁচাতে এক অসহায় মেয়ের অসম লড়াই। টাকার অভাবে জিবি হাসপাতালে ধুঁকতে থাকা খোয়াইয়ের প্রবীণ তথা আদি বিজেপি নেতা প্রমোদ রঞ্জন দাস পর্যাপ্ত ও উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা শুরু হওয়ার আগেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিন তীব্র আর্থিক অনটনের কারণে সঠিক সময়ে উন্নত চিকিৎসা না মেলায় তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটেছিল। প্রবীণ এই নেতার প্রয়াণে সমগ্র খোয়াই জেলা জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
উলেখ্য, “দল যখন শূন্যে ছিল তখন ছিলেন বাবা, আজ দল ক্ষমতায় অথচ বাবা আজ ব্রাত্য!”—এই শিরোনামে প্রবীণ নেতার কন্যা ত্রৈনেত্রী দাস (মিঠু)-র সামাজিক মাধ্যমে করা এক আকুল আর্তনাদের খবর আমরাই প্রথম জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছিলাম। সংবাদ প্রকাশের পর হুড়মুড় করে টনক নড়ে রাজনৈতিক মহলের। সংবাদ প্রকাশের পর অন্তিম লগ্নে প্রদেশ বিজেপি নেতৃত্ব থেকে শুরু করে বিজেপি খোয়াই জেলা ও মণ্ডলের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে প্রবীণ নেতার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। সময়মতো পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তের এই আর্থিক সাহায্য আর কোনো কাজে আসেনি—সব চেষ্টা ব্যর্থ করে বিদায় নিলেন আদি বিজেপি নেতা প্রমোদ রঞ্জন দাস।
প্রবীণ নেতার মৃত্যুর পর সামাজিক মাধ্যমে এক অদ্ভুত ও বৈপরীত্য চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা নিয়ে খোয়াইয়ের সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয় জনগণের মতে, প্রমোদ বাবু যখন দিনের পর দিন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে অর্থের অভাবে ছটফট করছিলেন, তখন যে সমস্ত নেতারা কিংবা তথাকথিত শুভাকাঙ্ক্ষীরা একবারের জন্যও তাঁর খোঁজ নিতে এগিয়ে আসেননি বা পাশে দাঁড়াননি, আজ প্রবীণ নেতা প্রয়াত হতেই তাঁরাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশ ও স্মৃতিচারণের হিড়িক তুলেছেন! মৃত নেতার সাথে পুরনো ছবি পোস্ট করে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ ভরিয়ে তুলছেন অনেকে। বেঁচে থাকতে যে প্রবীণ নেতাকে চরম অবহেলার শিকার হতে হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছিল মেয়ে ত্রৈনেত্রী। একজন আদি ও নিষ্ঠাবান কর্মীর এমন করুণ পরিণতি এবং তাঁর মৃত্যুর পর এই লোকদেখানো শোক প্রকাশ ত্রিপুরা রাজনীতির এক নির্মম বাস্তবকেই যেন আরও একবার আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
