সরকারি কাজে বরাদ্দ সিমেন্ট সরানোর অভিযোগ, খোয়াইয়ে জনতার হাতে আটক লরি; প্রশাসনের নীরবতায় প্রশ্ন

গোপাল সিং, খোয়াই, ২১ আগস্ট || খোয়াইয়ে সরকারি নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ ‘Not for Sale’ লেখা বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট রাতের আঁধারে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একটি প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়ি থেকে সিমেন্টবোঝাই লরি বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাঁরা সেটি আটক করেন। ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, TR02K-1891 নম্বরের একটি লরিতে সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত সিমেন্টের বস্তা তুলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল। সেই সময় স্থানীয় কয়েকজন সতর্ক নাগরিক লরিটিকে আটকে দেন। লরির চালক হিসেবে আশীষ মিঞার নাম জানা গেছে। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে চালক দাবি করেন, ফোনে নির্দেশ পাওয়ার পর তিনি সিমেন্টের বস্তাগুলি লরিতে তোলেন এবং সুবিধাজনক কোনো স্থানে সেগুলি ফেলে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে সরকারি গোদাম থেকে কোনো নির্মাণসামগ্রী বের করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথা। সাধারণত ওয়ার্ক অর্ডার, চালান এবং স্টোরকিপারের মাধ্যমে সামগ্রী সরবরাহের ব্যবস্থা থাকে। সেই ক্ষেত্রে উপযুক্ত নথিপত্র ছাড়া কীভাবে এত পরিমাণ সরকারি সিমেন্ট বাইরে গেল—এটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনার পর প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও খোয়াই ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য সামনে না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। সরকারি সম্পদ সরানোর অভিযোগে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, সেটিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ।
এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতেও সরকারি কাজে বরাদ্দ সিমেন্ট ও রড নিয়ে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। তাই বর্তমান ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। তাঁদের বক্তব্য, লরি চালকের মোবাইলের কল রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হলে সিমেন্ট সরানোর নেপথ্যে কারা রয়েছেন, তা স্পষ্ট হতে পারে।
ঘটনাটি আদৌ সরকারি সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো বিষয় রয়েছে—তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে। তবে সরকারি সম্পদ নিয়ে ওঠা এই অভিযোগের দ্রুত তদন্ত এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন খোয়াইয়ের বাসিন্দারা।
অভিযোগগুলির সত্যতা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ প্রশাসনিক তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*