বলরাম দেবনাথ, সাব্রুম, ১৯ আগস্ট || ত্রিপুরার গৌরবময় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম মহান স্থপতি এবং আধুনিক ত্রিপুরা গঠনের রূপকার মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুরের ১১৮তম জন্মজয়ন্তী যথাযোগ্য মর্যাদা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে উদযাপিত হলো সাতচাঁদে।
এই উপলক্ষে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে সাতচাঁদ কমিউনিটি হলে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রদীপ প্রজ্বলন এবং মহারাজা বীর বিক্রমের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত, বিধায়ক মাইলাফ্রু মগ, সাবরুমের প্রাক্তন বিধায়ক শঙ্কর রায়, বিশিষ্ট সমাজসেবী দীপায়ন চৌধুরী, বিপুল ভৌমিক, সাতচাঁদ পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান প্রবাস লোদ এবং বিডিও সৌরদীপ দেবনাথ-সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্থানীয় বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবেশিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কোমলমতি পড়ুয়াদের নৃত্য, গান ও নাট্য পরিবেশনা উপস্থিত অতিথি ও দর্শকদের মুগ্ধ করে। তাদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং কৃতি ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও প্রশংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। এই সম্মাননা আগামী দিনে কৃতি শিক্ষার্থীদের আরও ভালো কাজের জন্য অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করেন উপস্থিত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা মহারাজা বীর বিক্রমের দূরদর্শী চিন্তাভাবনা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে তাঁর অনন্য অবদান এবং আধুনিক ত্রিপুরা গঠনে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, মহারাজার আদর্শ, শিক্ষা ও উন্নয়নমুখী চিন্তাধারা আজও নতুন প্রজন্মকে সমৃদ্ধ ও উন্নত ত্রিপুরা গড়ার পথে অনুপ্রেরণা জোগায়।
