সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ৩১ অক্টোবর || দীর্ঘ দেড় মাসের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে তেলিয়ামুড়ার বহুচর্চিত প্রণয় দে ওরফে জুন হত্যা মামলায় মূল অভিযুক্ত কৃষ্ণধন সরকারকে গ্রেপ্তার করল তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর মাইগঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ধৃতকে সাত দিনের পুলিশি রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে খোয়াই আদালতে পেশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজোর আগের রাতে তেলিয়ামুড়া থানাধীন মাইগঙ্গা চৌমুহনী সংলগ্ন তেলিয়ামুড়া-উত্তর মহারানী সড়কের পাশে একটি বাইকের কাছ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় জয়নগর এলাকার যুবক প্রণয় দে ওরফে জুনকে। যুবককে ওই অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রণয়ের আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবার ও পরিচিত মহলে। প্রথমদিকে ঘটনাটি দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। পরবর্তী সময়ে মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে তেলিয়ামুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ সামনে আসে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তেলিয়ামুড়া থানার মামলা নম্বর ৫৫/২০২৬-এর ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে অবশেষে কৃষ্ণধন সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্তের গ্রেপ্তারিকে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহের জন্য ধৃতকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
এখন তদন্তকারীদের সামনে একাধিক প্রশ্ন। ঠিক কী কারণে প্রাণ হারাতে হলো প্রণয় দে-কে? কীভাবে ঘটেছিল সেই রাতের ঘটনা? এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনার নেপথ্যের আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দীর্ঘ দেড় মাস পর অভিযুক্তের গ্রেপ্তারের খবরে মামলার তদন্ত নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে এলাকায়। প্রিয়জনকে হারিয়ে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। এখন পুলিশের তদন্ত এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।
