গোপাল সিং, খোয়াই, ১২ জুলাই ।। খোয়াই জেলা হাসপাতালে চালু হয়েছে জেনরিক মেডিসিন পরিষেবা। স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খোয়াই জেলা হাসপাতালেও জন ওষুধি বা জেনরিক মেডিসিন কাউন্টার উদ্বোধনের আয়োজন করা হয়। বিগত এক বছর যাবত কোনও এক অজ্ঞাত কারনে তারিখ পরিবর্তন হতে হতে শেষ পর্যন্ত শনিবার ৯ই জুলাই জেনরিক মেডিসিন কাউন্টারের সূচনা হল। উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বিপুল আয়োজন। কিন্তু সরকারী নিয়ম-নীতিকে চুলোয় দিয়ে হাসপাতাল চত্বরেই এদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জানান দিতে লাগানো হল উচ্চস্বরে মাইক, সাউন্ড সিস্টেম। যেখানে সরকারী নির্দেশ অনুযায়ী হাসপাতাল এলাকার দুশ মিটারের মধ্যে কোন উচ্চস্বরে মাইক, গাড়ীর তীব্র আকারে হর্ণ বা অন্যান্য সাউন্ড সিস্টেম বাজানো নিষেধ এবং এই নির্দেশ অমান্য করলে জেল-জরিমানাও হতে পারে, সেখানে কিন্তু স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত জেনরিক মেডিসিন কাউন্টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে হাসপাতালের অভ্যন্তরেই বাজল একাধিক মাইক। হাসপাতালের চারদিকেই মাইক লাগিয়ে হাসপাতাল কতৃপক্ষ এদিন প্রমান করল আসলে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানে উনারা কতটুকু যত্নশীল। এছাড়া শব্দ দূষনের মাত্রাও তো এদিন সব গন্ডি পেরিয়ে গেল। হাসপাতালের অভ্যন্তরে শব্দ দূষনের জন্য দায়ি হাসপাতাল কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে কি তবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে? উদ্যোক্তারা ভাবছেন সরকারী টাকা যেভাবে খুশি খরচ কর এবং কামিয়ে নাও। অথচ জনগন ভাবছেন জনগনের টাকা চাকচিক্যে খরচ না করে প্রচার বাবদ যদি খরচ হত তাহলেই মঙ্গল হত। কারন খোয়াই জেলা হাসপাতালে জেনরিক মেডিসিনের পরিষেবা গ্রহন করবে সাধারন শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষরাই। শহরবাসী বা পুঁজিপতি নেতা-আমলাদের এই সুযোগের প্রয়োজন নেই। খোয়াই-রামচন্দ্রঘাট-আশারামবাড়ী সহ খোয়াই পুর সভা এলাকা বাদ দিলে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজারের মতো জনগন এই পরিষেবার সুযোগ পাবার কথা। অথচ উদ্যোক্তারা জেলা হাসপাতালে শুধুমাত্র অনুষ্ঠান করে এবং অনুষ্ঠান বাবদ বিভিন্ন খরচ যেমন, কাউন্টার বানাতে মেরামতি করা, রং দেওয়া, ইলেকট্রিক বাবদ এবং সেই সাথে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য তৈরী প্যান্ডেল বাবদ লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ দেখাবে। উদ্যোক্তারা ভাবছে সরকারি টাকা লুটে নাও এবং জনগন ভাবছে কিভাবে গনহারে লুট হচ্ছে আম জনতার টাকা। কিন্তু এসব দেখবে কে? ঘটা করে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ দেখিয়ে জেনরিক মেডিসিন কাউন্টার উদ্বোধন করা হলো কিন্তু গ্রামে-গঞ্জে, পাহাড়ে-সমতলে নেই কোন প্রচার। এর পেছনে অন্য কোন কুমতলব রয়েছে কিনা তাই বোঝে উঠতে পারছেন না জনসাধারন। এমনকি বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যমকে এমন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের বিষয়ে জানানো হয়নি। এক আধিকারিক বলেই ছিলেন, সংবাদ মাধ্যমকে জানালেই বিপদ! কত টাকা খরচ হয়েছে, প্রচার কেন হয়নি এমন বহু প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। সুতরাং একাংশ মিডিয়াকে না জানানোই ভাল। অথচ এরাই প্রচারের আলোতে আসতে ব্যস্ত থাকেন। অপরদিকে খোয়াই জেলা হাসপাতালের জেনরিক মেডিসিন কাউন্টারের সামনে যে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে সেটি কেন ইংরেজীতে লেখার পাশাপাশি রাজ্যের দুটি স্বীকৃত সরকারী ভাষা বাংলা ও ককবরকে লেখা হলনা? প্রশ্ন উঠছে জনমনে। গ্রাম-পাহাড় থেকে যেসব সাধারন মানুষজন এই পরিষেবা নিতে আসবেন তারা কি করে জেনিরক মেডিসিন কাউন্টারটি খুঁজে পাবেন? তাছাড়া কাউন্টারটি দেখলে মনেই হয়না যে এটি একটি মেডিসিন কাউন্টার। নাকি এর মধ্যেও কোন রহস্য লুকিয়ে রয়েছে! এনিয়ে জনমনে গুঞ্জন অব্যহত। তাই অচিরেই জেনরিক মেডিসিন কাউন্টারটির সামনে বাংলা এবং ককবরকে সাইনবোর্ড লাগিয়ে জনগনের জন্য একটু সহৃদয় হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন জনসাধারন। সেই সাথে জেনরিক মেডিসিন ও কাউন্টার নিয়ে আরও ব্যপক প্রচারের দাবিও জানানো হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই, জনগনের জন্য চালু করা সরকারী এই সুবিধা জনগনের হাতে বাস্তবে পৌছবে এবং জনগন এতে উপকৃত হবেন। এমনটাই প্রত্যাশা খোয়াইবাসীর।
