চৈত্রের শেষ দিনে চড়ক মেলা অনুষ্ঠিত

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৪ এপ্রিল || আজ চড়ক সংক্রান্তি। লিঙ্গপুরাণ, বৃহদ্ধর্মপুরাণ এবং ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে চৈত্র মাসে শিবারাধনা প্রসঙ্গে নৃত্যগীতাদির উল্লেখ থাকলেও চড়ক পূজোর উল্লেখ নেই। পূর্ণ পঞ্চদশ-ষোড়শ শতাব্দীতে রচিত গোবিন্দানন্দের বর্ষক্রিয়াকৌমুদি ও রঘুনন্দনের তিথিতত্বেও চড়ক পূজোর উল্লেখ পাওয়া যায় না। তবে পাশুপত সম্প্রদায়ের মধ্যে বহু প্রাচীন কালে এই উৎসবের প্রচলন ছিলো। উচ্চ বর্ণের মানুষদের মধ্যে এই উৎসবের ইতিহাস প্রাচীন নয়। জনশ্রুতি রয়েছে, ১৪৮৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা সুন্দরানন্দ এই পূজো প্রথম করেন।
কথিত আছে, শিব উপাসক বানরাজা দ্বারকাধীশ কৃষ্ণের সঙ্গে যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত হয়ে মহাদেবের প্রীতি উৎপাদন করে অমরত্ব লাভের আকাঙ্ক্ষায় ভক্তিসূচক নৃত্যগীতাদি ও নিজের গায়ের রক্ত দিয়ে শিবকে তুষ্ট করে অভীষ্ট সিদ্ধ করেন। সেই স্মৃতিতে শৈব সম্প্রদায় আজকের দিনে শিব পূজো ও চড়ক উৎসব পালন করে থাকেন।
আজ চরক মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই মেলাকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন জায়গায় মেলা বসে এবং বিভিন্ন দোকানিরা পরসা সাজিয়ে বসে। বিভিন্ন খাবার দোকানও সেই মেলাতে অংশগ্রহণ করে।
এদিন প্রতাপগড় ও জিবি চানমারিতে অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও চড়ক মেলা হয়েছে। প্রতাপগড় পরজীবী চানমারি এলাকায় লোক ছিল চোখে দেখার মত। প্রত্যেক বছরই তারা এই দিনটাকে পালন করে থাকে। এক মাস ধরে তারা গাজন নিত্য এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের সেই নৃত্য প্রদর্শন করেন এবং চৈত্রের শেষ দিনে তারা এই পুজো করে থাকেন এবং মানুষের এবং দেশের মঙ্গল কামনা করে এই দিনটাকে তারা পালন করে থাকেন।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*