আগরতলায় এসএলবিসি’র ক্রেডিট আউটরিচ প্রোগ্রাম: ১০ হাজারের বেশি উপভোক্তার হাতে ৪১৯ কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুরি, নেট এনপিএ ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন — এম নাগারাজু

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ মে || আগরতলায় অনুষ্ঠিত হলো স্টেট লেভেল ব্যাংকার্স কমিটি (এসএলবিসি) আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ ক্রেডিট আউটরিচ প্রোগ্রাম। মঙ্গলবার আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারত সরকারের অর্থ পরিষেবা বিভাগের সচিব এম নাগারাজু। অনুষ্ঠানে ব্যাংকিং পরিষেবার সম্প্রসারণ, ঋণ সহায়তা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এম নাগারাজু জানান, শক্তিশালী নীতি ও কার্যকর নজরদারির ফলে বর্তমানে সরকারি ব্যাংকগুলির গ্রস ও নেট এনপিএ (নন-পারফর্মিং অ্যাসেট) ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বর্তমানে নেট এনপিএ ০.৪ শতাংশেরও নিচে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রায় ৫৮ কোটি মানুষকে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে, যার মধ্যে ৩২ কোটি মহিলা রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত ২৬ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদিত হয়েছে এবং এর উল্লেখযোগ্য অংশ মহিলা উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছেছে।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এম নাগারাজু জানান, ত্রিপুরায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই ক্রেডিট আউটরিচ প্রোগ্রামের সূচনা করা হয়েছে। যোগ্য উপভোক্তাদের ঋণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে কেন্দ্র সরকার ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব জিতেন্দ্র কুমার সিনহা, সচিব প্রশান্ত কুমার গোয়েল, বিশেষ সচিব রাখি বিশ্বাস, পিএনবির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এম পরমশিবম সহ নাবার্ড, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা।
সভায় প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনা, অটল পেনশন যোজনা, পিএম স্বনিধি, স্ট্যান্ড-আপ ইন্ডিয়া, পিএম বিশ্বকর্মা এবং কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের মতো একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সাফল্যের দিক তুলে ধরা হয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এদিনের অনুষ্ঠানে মোট ১০ হাজার ১৬২ জন উপভোক্তার হাতে ৪১৯.১১ কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুরিপত্র তুলে দেওয়া হয়, যা ত্রিপুরার আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*