আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ মে || জাতীয় স্তরের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা মিস গ্র্যান্ড ইন্ডিয়া ২০২৬-এ উজ্জ্বল সাফল্য অর্জন করে ত্রিপুরার মুখ উজ্জ্বল করলেন হৃত্ত্বিকা মজুমদার। নয়াদিল্লির তালকাটোরা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের মধ্যে স্থান করে নেন শীর্ষ ১৫ ফাইনালিস্টের তালিকায়। পাশাপাশি তাঁর আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব ও ইতিবাচক উপস্থিতির স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেন ‘মিস রেডিয়েন্ট পার্সোনালিটি’ সম্মাননা।
হৃত্ত্বিকার এই অর্জনকে ঘিরে ত্রিপুরাজুড়ে গর্ব ও উচ্ছ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জাতীয় মঞ্চে তিনি শুধু নিজের প্রতিভাই নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও আত্মবিশ্বাসকেও তুলে ধরেছেন বলে মত বিভিন্ন মহলের।
জানা গেছে, উত্তর-পূর্ব ভারতের স্টার্টআপ কমিউনিটি টোটেলের উদ্যোগ টোটেল ফ্যাশন তাঁর এই যাত্রায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। এর আগেও তিনি ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া ২০২২-এ ত্রিপুরার স্টেট ফাইনালিস্ট হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করে ‘বিউটি উইথ ব্রেইনস’ খেতাব অর্জন করেছিলেন।
শুধু গ্ল্যামার জগতেই নয়, শিক্ষাক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সাফল্যের অধিকারী হৃত্ত্বিকা। তিনি এনআইটি আগরতলা থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর রসায়নে এম.এসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ফলে সৌন্দর্য ও মেধার সমন্বয়ে তিনি আধুনিক প্রজন্মের নারীদের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন।
এদিকে, প্রতিযোগিতার জাতীয় পোশাক পর্বে প্রদর্শিত বিশেষ কস্টিউমটি ডিজাইন করেন ত্রিপুরার শিল্পী রোহিত দেববর্মা। তাঁর নকশায় ত্রিপুরার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ছাপ জাতীয় মঞ্চে প্রশংসা কুড়িয়েছে বলে জানা যায়।
টোটেলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ড. মুঘাভি এ. তুক্কু বলেন, “হৃত্ত্বিকা মজুমদারের এই সাফল্য ত্রিপুরা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। তাঁর অর্জন প্রমাণ করে, নিষ্ঠা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে জাতীয় পর্যায়েও সাফল্য অর্জন সম্ভব।”
মিস গ্র্যান্ড ইন্ডিয়া ২০২৬-এ হৃত্ত্বিকার এই সাফল্য ব্যক্তিগত অর্জনের গণ্ডি ছাড়িয়ে ত্রিপুরার প্রতিভা, সংস্কৃতি ও সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল পরিচয় হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
