আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ ডিসেম্বর || সংসার প্রতিপালনের ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া বিবাদে সবসময় শুধু পুরুষদের দোষ থাকে এমনটা নয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘরের মহিলাদেরও দোষ থাকে। ঠিক এমনই একটি ঘটনা প্রত্যক্ষ করা গেল গোলাঘাটি বিধানসভা কেন্দ্রের কাঞ্চনমালা এলাকার ২নং ওয়ার্ডে। জানা যায়, ঐ এলাকার ভজন বিশ্বাসের ছেলে টুটন বিশ্বাস ১৩ বছর আগে কমলাসাগর বিধানসভা কেন্দ্রের লেম্বুতলী ১৯নং ওয়ার্ড এলাকার মৃত হরলাল বিশ্বাসের মেয়ে বিউটি বিশ্বাসকে সামাজিক নিয়ম রীতি মেনে বিয়ে করে। বিয়ের পর তাদের ঘরে দুই কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। দুই কন্যা সন্তান জন্মাবার পরেই টোটন বিশ্বাসের স্ত্রী বিউটি বিশ্বাস কাঞ্চনমালা এলাকার এক ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রথমে বিষয়টি টোটন বিশ্বাস জানতে পারেনি। পরে টোটন বিশ্বাস তার নিজ বাড়িতেই তার স্ত্রী বিউটি বিশ্বাসকে এবং তার স্ত্রীর প্রেমিককে হাতেনাতে ধরে ফেলে। আর ঠিক তার পর থেকেই টোটন বিশ্বাসের সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হতে থাকে। যদিও টোটন বিশ্বাস কাউকে না জানিয়ে তার স্ত্রী বিউটি বিশ্বাসকে অনেকবার বুঝানোর চেষ্টা করেছিল কিন্তু পরকীয়া প্রেম বলে কথা, কে শুনে কার কথা। স্বামী টোটন বিশ্বাসের কথা কর্ণপাত করেনি তার স্ত্রী বিউটি বিশ্বাস। গোপনে চলে আসছিল তাদের এই পরকীয়া প্রেম কাহিনী। তাদের এই সম্পর্ক টোটন বিশ্বাসের কাছে অনেকবার ধরা পড়ার পর টোটন বিশ্বাস বাধ্য হয়ে বিষয়টি স্থানীয় কাঞ্চনমালা গ্রাম পঞ্চায়েতে জানায়। কিন্তু তারপরেও টোটন বিশ্বাসের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে তার স্ত্রী বিউটি বিশ্বাস নিজের ভুল বুঝতে পেরে অবশ্যই একদিন ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু টুটন বিশ্বাসের সেই ধারণাটাই ছিল ভুল। টোটন বিশ্বাসের স্ত্রী বিউটি বিশ্বাস এবং তার নাগরের পরকীয়া প্রেমের মাঝখানে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল টোটন বিশ্বাস। তাই বিউটি বিশ্বাস বিভিন্ন অজুহাত এবং বাহানা সৃষ্টি করে দুই মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যায়। যাবার সময় বলে যায় যে, সে নাকি আর কোনদিনও স্বামীর ঘরে ফিরে আসবে না। কিন্তু তারপরেও টোটন বিশ্বাস তার স্ত্রী এবং দুই কন্যা সন্তানের উপর ভালোবাসা এবং ভরসা রেখে বেশ কয়েকবার শ্বশুর বাড়ি থেকে স্ত্রী এবং কন্যা সন্তানদের ফিরিয়ে আনতে যায়। কিন্তু কন্যা সন্তানদের এবং স্ত্রী ফিরিয়ে আনার বদলে টোটন বিশ্বাসকে বার বারই সহ্য করতে হয়েছিল অপমান এবং লাঞ্ছনা। অবশেষে টোটন বিশ্বাস আবারো স্থানীয় কাঞ্চনমালা গ্রাম পঞ্চায়েতের তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রার্থনা করেন। অবশেষে কাঞ্চনমালা গ্রাম পঞ্চায়েত এবং টোটন বিশ্বাসের শ্বশুরবাড়ি এলাকার স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে যৌথভাবে এক মীমাংসা সভায় বসে। মীমাংসা সভায় বিউটি বিশ্বাস বারবার একই কথা বলে আসছিল যে, সে আর কোনদিনও স্বামীর ঘর করবে না। তারপর উভয় এলাকার পঞ্চায়েতের আবেদনে বিউটি বিশ্বাসকে তার স্বামীর ঘরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর বিউটি বিশ্বাস তার স্বামীর ঘরে কয়েকদিন থাকার পর হঠাৎ দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে চলে যায়। তবে ধারণা করা হচ্ছে বিউটি বিশ্বাস আবার তার বাবার বাড়িতে চলে গেছে। টোটন বিশ্বাসের অভিযোগ তার স্ত্রী বিউটি বিশ্বাসের সেই প্রেমিকের কারণেই তার সুন্দর সংসারটি আজ ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। তাই তার স্ত্রী এবং দুই কন্যা সন্তান চলে যাবার পর থেকেই টোটন বিশ্বাস মানসিক ভাবে অনেকটাই ভেঙ্গে পড়েছেন এবং দিনরাত শুধু চোখের জল ফেলে আসছেন। টোটন বিশ্বাস সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়ে জানিয়েছেন, সোমবার তার স্ত্রী বিউটি বিশ্বাস এবং তার স্ত্রীর প্রেমিকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে সুবিচার কামনা করবেন।
