সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ১৪ আগস্ট || স্বজন হারানো ব্যথা সুদীর্ঘ ২০ বছর পরেও ভুলতে পারেননি যমুনা, সুরেন্দ্র, অপর্ণা দেবীরা। স্বাধীনতা দিবস ঘনিয়ে দ্বারপ্রান্তে এলে তাদের দুটি চোখ দিয়ে ছল ছল করে, জল গড়িয়ে পড়ে। কেন এমনটা হয় তাদের সেটাই আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। স্বজন হারানোর ব্যথায় বর্তমানে তারা ভাড়া কান্ত। বিগত বাম সরকারের প্রশাসন তাদের জন্য সাহায্যের হাতটুকু বাড়িয়ে দেইনি। বর্তমানে রামের শাসনকালেও একই অবস্থা। প্রসঙ্গ গত ২০০৩ সালের ১৪ই আগস্ট দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার রাতের অন্ধকারটা ছিল নিশুতি অমানিশির রাতর মতো। এমন দিনের সন্ধ্যা রাতেই রাজ্যের নিষিদ্ধ ঘোষিত রক্ত পিপাসু এনএলএফ জঙ্গিরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে তেলিয়ামুড়া থানাধীন বড়লুঙ্গা এলাকায় ১৬ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করেছিল। সেই সময় রাজ্যের বাম আমলের মন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রশাসনের আমলা কামলারা বড়লুঙ্গা এলাকা পরিদর্শনে এসেছিলেন। এই সময়ে বাম প্রশাসন মৃতদেহ সৎকার করার জন্য কিছু অর্থনৈতিক সাহায্য করেছিল। কিন্তু বাম দলের স্থানীয় নেতারা মৃতদেহ সৎকারে টাকাও গিলে খেয়েছিল নীলজ্জের মত। বিগত ২৫ বছরের জামানা কালে ওইসব পরিবারগুলি কোন ধরনের সাহায্য সহায়তা পায়নি বলে অভিযোগ। বর্তমান সময়কালেও এসব পরিবারগুলিকে দেব দিচ্ছি এমনটাই বলা হচ্ছে স্থানীয় নেতা থেকে শুরু করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। কিন্তু অত্যন্ত পরিধাবের বিষয় আজও তারা হন্যে হয়ে ঘুরতে দেখা যায়। আবার অনেকে জঙ্গল থেকে লাকরি এনে সেই লারকি বিক্রি করে সংসার প্রতিপালন করতে হচ্ছে। তাই ১৪ই আগস্ট নিশুতি রাত নিয়ে ভারাক্রান্ত থাকে। কারণ এমন দিনেই তাদের পরিবার পরিজনদের কপালে দূর বিশহের মত ঘটনা ঘটেছিল। অন্যদিকে খোয়াই জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য রঞ্জিত সরকার প্রসঙ্গে জানান, আগামী শারদীয় পুজোর আগেই দু একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। বিশেষ করে যমুনা সরকারকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা ঘর দেওয়া হয়েছে, বৃদ্ধ ভাতা দেওয়া হয়েছে এবং অন্য পরিবার গুলিকে মধ্য কৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে সরকারি সুযোগ সুবিধা গুলি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং আগামী দিনেও এটা জারি থাকবে। কেননা ২০০৩ সালের ১৪ই আগস্ট দিনটি ছিল এলাকাবাসীর কাছে বিভীষিকাময়ের মত ।
