একাংশ ঘুষখোর পুলিশ অফিসারদের দৌলতে ভূলুণ্ঠিত রাজ্য পুলিশের মান-ইজ্জত

সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ১১ জানুয়ারি || একাংশ ঘুষখোর পুলিশ অফিসারদের দৌলতে ভূলুণ্ঠিত রাজ্য পুলিশের মান-ইজ্জত! রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর স্বচ্ছ প্রশাসন নীতিকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ঘুষের পয়সায় ফুলে ফেঁপে উঠেছে ত্রিপুরা রাজ্যের একাংশ পুলিশ কর্মীরা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সহ রাজ্য সরকার’কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সাধারণ জনগণের পরিশ্রমের টাকায় ভাগ বসাচ্ছে রাজ্য পুলিশের একাংশ ঘুষখোর পুলিশ অফিসারেরা। যার তথ্য প্রমাণ এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো।
রাজ্য পুলিশের একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর তেলিয়ামুড়া মহকুমার অন্তর্গত হাওয়াই বাড়ি নাকা পয়েন্ট’কে টার্গেট করে নিজের অবৈধ কামাইয়ের সাম্রাজ্য জাঁকিয়ে বসেছে। এ যেন এক প্রকার রাজ্য সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে ওই অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর। তার কৃতকর্মের মধ্য দিয়ে রাজ্য সরকারকে জানিয়ে দিয়েছে দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ প্রশাসন এই রাজ্যে কখনোই সম্ভব নয়। লজ্জায় মাথা হেঁট হওয়ার উপক্রম রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের! এটাই কি সেই রাষ্ট্রপতি কালার্স প্রাপ্ত ত্রিপুরা পুলিশ? প্রশ্ন এ রাজ্যের আমজনতার।
এই গুণধর পুলিশ অফিসারের নাম হল শিবু প্রসাদ দেব, যে কিনা পুলিশ মহলে শিবু নামে পরিচিত। তিনি বর্তমানে কর্মরত আছে তেলিয়ামুড়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের কার্যালয়ে। দীর্ঘ একটানা ৯-১০ বছর যাবত এই শিবু প্রসাদ দেব প্রথমে হাবিলদার এবং পরবর্তীতে অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে তেলিয়ামুড়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক কার্যালয়ে নিযুক্ত থাকার সুবাদে তোল্লা আদায়ে রীতিমতো পি.এইচ.ডি ডিগ্রী অর্জন করেছে বলে সূত্রের খবর।
অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি তার পেটের খাই মেটানোর জন্য হাওয়াই বাড়ি নাকা পয়েন্ট’কে ব্যবহার করে লাখ লাখ টাকা কামিয়ে আসছে। বিভিন্নভাবে অবৈধ নেশা সামগ্রী বোঝাই গাড়ি গুলোকে ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে শিবু প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা পালন করছিল বলেই তুলনামূলক ভাবে তেলিয়ামুড়া মহকুমা পুলিশ নেশা সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে ততটা সফলতা পাচ্ছিল না। তেলিয়ামুড়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের কার্যালয় সূত্রে খবর, তদানীন্তন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক প্রসূন কান্তি ত্রিপুরার নাকের তলায় এই শিবু দিনের পর দিন তার অবৈধ তোল্লা বাণিজ্য কায়েম করে রেখেছিল। তোল্লা আদায় করতে করতে শিবু বর্তমানে তোল্লার টাকায় বিশাল ইমারত তৈরি করেছে বলেও খবর। এরই মধ্যে তেলিয়ামুড়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের রদবদল হয়েছে, নতুন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বিভিন্ন সূত্র মারফত শিবুর কেচ্ছা কেলেঙ্কারি অনুধাবন করতে পেরে তাকে নাকার ডিউটি থেকে তুলে এনে এস.ডি.পি.ও অফিসে একপ্রকার পূনর্বাসন দিয়ে রেখেছে বলে খবর।
এদিকে পুলিশ মহলে কান পাতলেই এই এ.এস.আই শিবু সহ একাংশ তোল্লা বাজ, ঘুষখোর পুলিশ কর্মীদের কেচ্ছা কেলেঙ্কারির ঘটনাগুলো সামনে উঠে আসে। আপাতত যা খবর নতুন পুলিশ আধিকারিক শিবু সহ একাধিক তোল্লাবাজ পুলিশ কর্মীর কার্যকলাপকে রীতিমতো পর্যবেক্ষণ করে চলেছেন। তবে যেই প্রসূন কান্তি ত্রিপুরার গোটা ত্রিপুরার পুলিশ মহলকে রীতিমতো হাইলাইট করেছে, সেই প্রসূন কান্তি ত্রিপুরার নাকের তলায় তোল্লাবাজ শিবুর এই অবৈধ বাণিজ্যের পেছনে গভীর রহস্য থাকতে পারে বলে অনুমান। দীর্ঘদিন ধরে তেলিয়ামুড়া’কে ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকার নেশা সামগ্রীর আদান-প্রদানের পেছনে যে শিবুর মতো একাংশ পুলিশ কর্মী বা আধিকারিক সরাসরি যুক্ত, তা রীতিমতো স্পষ্ট হয়ে গেছে।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর, এই বিষয়ের উপর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়ে এই সকল কলঙ্কিত পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারের দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ার এক অনন্য নজির স্থাপন হবে বলে মনে করছে ত্রিপুরা রাজ্যের সচেতন নাগরিক মহল।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*