আপডেট প্রতিনিধি, তেলিয়ামুড়া, ১৭ জুলাই || চাকমাঘাটের জারুইলং বাড়ি হাটে হঠাৎ হাজির হয়ে কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশার কথা সরাসরি শুনলেন রাজ্যের উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। সরকারি প্রটোকল ছাড়াই হাটের মাঝেই সাধারণ কৃষকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে তাঁদের সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শোনেন তিনি।
বিশেষ করে সম্প্রতি দাঁতাল বন্য হাতির হামলায় ব্যাপক ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। জানান, ইতিমধ্যে বন দপ্তর ও বনমন্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
তেলিয়ামুড়ার চাকমাঘাট অঞ্চলের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবার কৃষিনির্ভর। তাঁদের একমাত্র জীবিকা কৃষিকাজ। অথচ, বারবার বন্য হাতির হানায় শুধু ফসল নয়, তাঁদের সংসার চালানোর সামর্থ্য, সন্তানদের শিক্ষার স্বপ্ন—সব কিছুই ধ্বংসের মুখে।
মন্ত্রী বলেন, “আমি কৃষকদের কষ্ট বুঝি। তাঁদের উন্নয়ন ও সুরক্ষা আমাদের সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের জন্য একটি নিরাপদ ও ছায়াযুক্ত স্থানে হাট বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে রোদ-বৃষ্টির কষ্ট না করে নির্বিঘ্নে পণ্য বিক্রি করতে পারেন।”
এদিনের সফরে জারুইলং বাড়ি হাট যেন এক অনানুষ্ঠানিক কৃষক দরবারে পরিণত হয়। মাটির কাছাকাছি থেকে সরকারের প্রতিনিধি সাধারণ কৃষকদের কথা শুনছেন, পাশে দাঁড়াচ্ছেন—এই মানবিক দৃশ্য নতুন ভরসা জোগাল গ্রামীণ সমাজে। এই সফর শুধুমাত্র সমস্যা শোনার ঘটনা নয়, বরং প্রশাসনের দায়বদ্ধতা ও তৃণমূল মানুষের সঙ্গে সরকারের বাস্তব সংযোগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
