আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ ডিসেম্বর || বাংলাদেশে জামাত-ই-ইসলামি ও তথাকথিত তৌহিদী ইসলামিক মৌলবাদীদের ধারাবাহিক ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের প্রতিবাদে রবিবার রাজধানী আগরতলায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই), ত্রিপুরা রাজ্য পরিষদ। সিপিআই-এর ডাকে আয়োজিত এই বিক্ষোভে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিপীড়ন, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর হামলা এবং ক্ষমতাসীন সরকারের ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
বিক্ষোভ থেকে সিপিআই নেতৃত্ব বাংলাদেশের মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের হাতে দিপু চন্দ্র দাশ নামে এক নিরীহ শ্রমিকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো-র দপ্তর, চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় কূটনৈতিক মিশন, ঢাকায় ছায়ানট ও উদীচীর কার্যালয়, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনাগুলিরও নিন্দা করা হয়। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে ইউনুস সরকারের ন্যাক্কারজনক ভূমিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে সিপিআই।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিআই রাজ্য সম্পাদক মিলন বৈদ্য বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী শক্তির ক্রমবর্ধমান ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ গণতান্ত্রিক অধিকার, সাংস্কৃতিক চেতনা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হানছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, শুধুমাত্র ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার করে একজন শ্রমিককে হত্যা করা মানবতা, সভ্যতা ও আইনের শাসনের চরম অবমাননা।
তিনি আরও বলেন, সংবাদমাধ্যম, সাংস্কৃতিক সংগঠন, ভারতীয় কূটনৈতিক মিশন ও প্রগতিশীল ব্যক্তিত্বদের ওপর হামলা প্রমাণ করে যে মৌলবাদী শক্তিগুলি পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি তৈরি করে গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতে চাইছে। এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ শুধু বাংলাদেশের নয়, সমগ্র উপমহাদেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
মিলন বৈদ্য অভিযোগ করেন, বর্তমান বাংলাদেশে ড. ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মৌলবাদী সন্ত্রাসী শক্তিগুলির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সিপিআই-এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সরকারের কাছে অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ড ও হামলাগুলির নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত, দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানানো হয়।
তিনি বলেন, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে—সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামই শান্তি, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষার একমাত্র পথ। বাংলাদেশসহ সর্বত্র মৌলবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল মানুষের সঙ্গে সিপিআই সংহতি প্রকাশ করছে।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সিপিআই রাজ্য সম্পাদক মিলন বৈদ্য ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ধনমনী সিনহা, বিক্রমজিৎ সেনগুপ্ত, অহিদ মিঞা, সুব্রত দেবনাথ, সিপিআই নেতা অরুণ সেনগুপ্ত, মহিলা ফেডারেশনের নেত্রী তুলসী দাস কপালি, জয়া বিশ্বাস, এআইএসএফ নেতা শুভদীপ মজুমদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।
