গোপাল সিং, খোয়াই, ১২ জানুয়ারি || আন্তর্জাতিক সীমান্ত কাঁটাতার সংলগ্ন এলাকায় কোনো আন্দোলন করা যাবে না। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কড়া নির্দেশকে মান্যতা দিয়েই খোয়াই পুলিশ প্রশাসন, টিএসআর ও বিএসএফের যৌথ সুরক্ষা বলয় তৈরী করে খোয়াই থানার সামনেই রুখে দেওয়া হলো ধিক্কার র্যালী। রণং সাজে সজ্জিত ছিল পুলিশ। রেলিটি সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল মহারাজগঞ্জ (পুরান) বাজার বিওপি অর্থাৎ ভারত-বাংলা সীমান্ত কাঁটাতারের বেড়া লাগুয়া এলাকায়।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর চলমান নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগের প্রতিবাদে খোয়াই জেলায় সোমবার এক ধিক্কার র্যালির আয়োজন করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দল। ‘হিন্দু তুমি গর্জে উঠো’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে শত শত মানুষ এই র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের অভিযোগ, বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ইউনুস সাহেবের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদতেই সে দেশে হিন্দু নিধনযজ্ঞ চলছে।
র্যালির অগ্রভাগে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী বিনয় দেববর্মা, অভিজিৎ দত্ত ভৌমিক, অনিমেষ নাগ এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের খোয়াই জেলা সম্পাদক সপ্তদ্বীপ আচার্য্য। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সংগঠনের কর্মী-সমর্থকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ধারাবাহিক অত্যাচার ও হত্যার প্রতিবাদে র্যালির পাশাপাশি একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়।
র্যালিটি শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথ পরিক্রমা করে। অংশগ্রহণকারীরা হাতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান জানান।
র্যালি শেষে খোয়াই মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ডি. কুদিয়ারাসু এবং খোয়াই থানার ওসি কৃষ্ণধন সরকার উপস্থিত থেকে সংবাদমাধ্যমকে জানান, কর্মসূচিটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে থ্রি-লেয়ার সিকিউরিটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। পুলিশ, টিএসআর ও বিএসএফ যৌথভাবে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল। র্যালি শেষে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবেই নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে গণতান্ত্রিক উপায়ে যে কোনো কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
