আগাম খবরের পরও বড় এসকফ চালান অধরা, খোয়াইয়ে ১৪২ বোতল উদ্ধারে রহস্য ঘনীভূত

গোপাল সিং, খোয়াই, ০৬ সেপ্টেম্বর || খোয়াই জেলায় নেশাবিরোধী অভিযানে ১৪২ বোতল এসকফ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের দাবি, গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে একটি সিএনজি গাড়ির তেলের ট্যাঙ্কার থেকে বিপুল পরিমাণ এসকফ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এরই মধ্যে একটি বড় চালান পুলিশের নজর এড়িয়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাচার হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হওয়া ১৪২ বোতল এসকফকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, আমবাসা থেকে তেলিয়ামুড়ার দিকে বিপুল পরিমাণ এসকফ বোঝাই একটি গাড়ি যাচ্ছিল। আমবাসার এসডিপিও-র তাড়া খেয়ে গাড়িটি কমলপুর হয়ে খোয়াই সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রবেশ করে বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে গাড়িটি সীমান্তপথে বাংলাদেশে পাচার হয়ে যায় বলেও দাবি করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিপুল পরিমাণ ওই নেশার চালানটি তেলিয়ামুড়া ও খোয়াইয়ের বনকর এলাকার কয়েকজন মূল কারবারির কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। পুলিশ প্রশাসনের কাছে আগাম তথ্য পৌঁছানোর পরও কেন মূল গাড়িটিকে আটক করা সম্ভব হলো না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, রাতেই গাড়িটির সন্ধানে চাম্পাহাওড় থানার পুলিশ সীমান্তবর্তী এলাকা ঘিরে তল্লাশি চালায়। কিন্তু দীর্ঘ তল্লাশির পরও মূল গাড়িটির কোনো হদিস মেলেনি বলে অভিযোগ। এর পরদিন রবিবার সকালে বাইজালবাড়ী থানা এলাকায় একটি সিএনজি গাড়ি, যার নম্বর TR01CH-0592, তল্লাশি করে তেলের ট্যাঙ্কারের ভিতর থেকে ১৪২ বোতল এসকফ উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ।
পুলিশের এই উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, মূল বিপুল চালানটি পুলিশের নজরদারির মধ্যেই অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পর তুলনামূলকভাবে সামান্য পরিমাণ নেশাসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনা বড় চালানের বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা হতে পারে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে এখনও কোনো নিরপেক্ষ প্রমাণ সামনে আসেনি।
খোয়াইয়ের এসডিপিও দেবপ্রসাদ রায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, ওসির কাছে পাওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে তেলের ট্যাঙ্কারের ভিতর লুকিয়ে রাখা ১৪২ বোতল এসকফ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
তবে পুলিশের নজরদারির মধ্যেই কথিত মূল চালানটি কীভাবে উধাও হয়ে গেল, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। শনিবার রাতের ঘটনাকে ঘিরে কোনো গোপন সমঝোতা, গাফিলতি কিংবা পরিকল্পিতভাবে ছোট অংশ উদ্ধার দেখানোর চেষ্টা হয়েছিল কি না—তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে স্থানীয় সচেতন মহলে।
সম্প্রতি খোয়াই জেলায় নেশা-সংক্রান্ত ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের কিছু কর্তাব্যক্তির নাম জড়ানোর অভিযোগ এবং সাবেক ডিজিপির আকস্মিক মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্নের আবহে এই নতুন বিতর্ক পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ফের ক্ষোভ তৈরি করেছে। তাই পুরো ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য সামনে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বড় চালান পাচার হয়ে যাওয়া বা কোনো ধরনের গোপন সমঝোতার অভিযোগের সত্যতা এখনও স্বীকার করা হয়নি। তদন্তের অগ্রগতির পরই পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*