বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ২৬ এপ্রিল || রবিবার সন্ধ্যায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার মহকুমায় ব্যাপক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়। প্রবল ঝড়ের দাপটে শান্তিরবাজার নতুন ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় একটি বড় গাছ ভেঙে পড়ে জাতীয় সড়কের উপর, ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে।
ঘটনার পরপরই জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর প্রশাসনের কাছে পৌঁছালেও, অভিযোগ উঠেছে যে শান্তিরবাজার মহকুমার ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিম নির্ধারিত সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে বগাফা ফরেস্ট রেঞ্জের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও, তাদের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দপ্তরের কর্মীরা অকেজো যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে কার্যত কোনো ফলপ্রসূ উদ্যোগ নিতে পারেননি। বরং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরিবর্তে দায়িত্বে গাফিলতির পরিচয় মিলেছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি দক্ষিণ জেলার বন দপ্তরের এক আধিকারিকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বগাফা বন দপ্তরের কিছু কর্মীর বিরুদ্ধেও আর্থিক অনিয়ম ও বনভূমি ধ্বংসের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, দপ্তরের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির ফলেই জরুরি সময়ে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কার্যকর অবস্থায় রাখা হয়নি।
এদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে সড়ক অবরুদ্ধ থাকার পর অবশেষে শান্তিরবাজার দমকল বাহিনীর কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছ কেটে সরিয়ে দেন এবং জাতীয় সড়কটি পুনরায় যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করেন।
এই ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
