সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ২৫ এপ্রিল || গন্ডাছড়া থানার নাকের ডগায় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। থানা থেকে মাত্র একশো মিটার দূরে গন্ডাছড়া হাসপাতাল চৌমুহনী এলাকায় একই রাতে পাশাপাশি দুটি টং দোকানে তালা ভেঙে চুরি হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।
প্রথম ঘটনার শিকার হন ষাট কার্ড এলাকার বাসিন্দা শিখা বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার পর শুক্রবার সকালে এসে তিনি দেখেন দোকানের তালা ভাঙা এবং ভেতরের মালপত্র লন্ডভন্ড অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দোকান থেকে ঠান্ডা পানীয়, দামি বিস্কুট, সিগারেটসহ নগদ অর্থ চুরি হয়েছে।
শিখা বিশ্বাস জানান, এই ছোট দোকানের আয়ের উপরই তাঁর সংসার নির্ভরশীল। অসুস্থ স্বামী ও সন্তানের চিকিৎসায় প্রতি মাসে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়, পাশাপাশি রয়েছে ঋণের কিস্তির চাপ। তিনি আরও জানান, এর আগেও তাঁর দোকানে তিনবার চুরি হয়েছে, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
একই রাতে পাশের আরেকটি দোকানেও একই কায়দায় তালা ভেঙে চুরি হয়। দোকানটির মালিক রাধাচরণ দাস। সকালে এসে তিনিও দেখেন দোকানের তালা ভাঙা এবং জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। চোরেরা ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা পানীয়, একটি গ্যাস সিলিন্ডারসহ একাধিক সামগ্রী নিয়ে চম্পট দেয়। রাধাচরণ দাস জানান, তিনি গত ২০ বছর ধরে ব্যবসা করছেন, কিন্তু তাঁর দোকানেও একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, থানার এত কাছাকাছি এলাকায় একই রাতে দুটি দোকানে চুরি হলেও পুলিশের টহল কেন কিছু টের পেল না? দীর্ঘদিন ধরে বারবার চুরির ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁরা আর্থিক সহায়তা এবং রাতের পুলিশি টহল জোরদারের দাবিও তুলেছেন।
ব্যবসায়ীদের মতে, শুধু তদন্ত বা আশ্বাসে কাজ হবে না—ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব।
