গোপাল সিং, খোয়াই, ২৫ এপ্রিল || সদ্য সমাপ্ত টিটিএএডিসি নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর পাহাড়ে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছে তিপ্রামথা পার্টি। সুপ্রিমো প্রদ্যুৎ মাণিক্য দেববর্মার পাশাপাশি এই লড়াইয়ে দলের অন্যতম কাণ্ডারি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। নির্বাচনের কঠিন সময়ে যখন দলের একঝাঁক হেভিওয়েট নেতা দলবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন, তখন রঞ্জিত দেববর্মা নিরলসভাবে কর্মীদের উৎসাহিত করে জয়ের পথ প্রশস্ত করেছেন। কিন্তু ভোট মিটতেই সেই দলত্যাগী বা বিমুখ নেতাদের পুনরায় দলে ফেরার হিড়িক দেখে এবার সামাজিক মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তিনি।
রঞ্জিত দেববর্মা তাঁর বার্তায় অত্যন্ত কড়া ভাষায় এক ‘টাকলা’ কুচক্রীর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছেন, যা মূলত বিজেপির মস্তিষ্কপ্রসূত বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, ওই কুচক্রীর মূল লক্ষ্য ছিল বুবাগ্রাকে অপদস্থ করা এবং তিপ্রামথা পার্টিকে ভেঙে চুরমার করে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদ দখল করা। বিধায়ক অভিযোগ করেন, ওই কুচক্রীর ইন্ধনেই তিপ্রামথা পার্টির কয়েকজন নেতা বিভ্রান্ত হয়েছিলেন এবং বর্তমানে তাঁরা জনগণের কাছে লাঞ্ছিত হচ্ছেন।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল বা প্রশাসনের কোনো পদের বিনিময়ে কি আমরা আমাদের ‘থানসা’ (জাতিসত্তা)-কে বিসর্জন দিতে পারি? ত্রিপুরার আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর বর্তমান পরিস্থিতির দিকে আঙুল তুলে রঞ্জিত বাবু বলেন, আমাদের তিপ্রাসা নেতারা অর্থ ও পদের লোভে নিজেদের বিক্রি করে দিচ্ছেন বলেই আজ আমরা রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা হারিয়েছি। আমাদের ভ্রান্ত চিন্তাধারা আর অহংকারের জন্যই আজ জাতি দিশেহারা।
তবে সমস্ত প্রতিকূলতার মাঝেও বুবাগ্রা প্রদ্যুৎ কিশোর মাণিক্য দেববর্মা যেভাবে তিপ্রাসা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন বিধায়ক। তিনি স্পষ্ট জানান যে, যারা বুবাগ্রাকে আঘাত করতে বা তাঁর নামে কুৎসা রটাতে চেয়েছিল, তারা আজ তিপ্রাসা জনগণের ‘থানসা’র শক্তির কাছে পরাজিত। শেষে বিদ্রূপের সুরে তিনি যোগ করেন যে, যারা আজ ভুল বুঝতে পেরে পুনরায় বুবাগ্রার কাছে ক্ষমা চেয়ে ফিরে আসছেন, তাঁদের তিনি সাদর অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন। রঞ্জিত দেববর্মার এই বিস্ফোরক সামাজিক মাধ্যম পোস্টটি বর্তমানে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
