গোপাল সিং, খোয়াই, ২৬ মে || সাম্য, দ্রোহ ও প্রেমের কবি, বাংলা সাহিত্যের অবিসংবাদিত পুরুষ তথা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী (নজরুল জয়ন্তী) মঙ্গলবার খোয়াই শহরে গভীর শ্রদ্ধা ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হলো। আজ ২৬ মে (১১ই জ্যৈষ্ঠ) কবিগুরুর জন্মতিথি উপলক্ষে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর (কালচারাল সেল, খোয়াই) এবং লালছড়া বাঘাযতীন ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে দিনভর নানা বর্ণাঢ্য ও চিত্তাকর্ষক অনুষ্ঠান সূচির আয়োজন করা হয়।
ভোর পাঁচটায় খোয়াই শহরের রাজপথে এক সুশৃঙ্খল ‘প্রভাত ফেরী’র মধ্য দিয়ে কবিপ্রণামের এই শুভ সূচনা ঘটে। প্রভাতী আলো ফুটতেই সকাল ঠিক সাড়ে ছয়টায় খোয়াইয়ের লালছড়াস্থিত বিদ্রোহী কবির আবক্ষ মূর্তির পাদদেশে এক ভাবগম্ভীর মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ অনুষ্ঠান এবং প্রভাতী অনুষ্ঠান সংঘটিত হয়। সকালে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খোয়াই পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন দেবাশীষ নাথ শর্মা, প্রণব বিশ্বাস, অশোক পাল সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। প্রভাতী অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে ‘সপ্তক সংগীত বিদ্যালয়’-এর শিল্পী বৃন্দ।
এরপর সন্ধ্যা ঠিক ছয়টায় লালছড়াস্থিত বাঘাযতীন ক্লাবের ‘নজরুল মঞ্চে’ মূল সাংস্কৃতিক ও আলোচনা সভার সূচনা হয়। এই জমকালো প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন খোয়াই জেলা পরিষদের কার্য বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি অনুকুল দাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালছড়া বাঘাযতীন ক্লাবের সভাপতি তারাপদ রায়।
এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খোয়াই পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন দেবাশীষ নাথ শর্মা। এছাড়াও সম্মানিত অতিথি হিসেবে মঞ্চ আলো করে উপস্থিত ছিলেন খোয়াই পুর পরিষদের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি পীযূষ কান্তি চৌধুরী, পুর পরিষদের কাউন্সিলর উত্তম চক্রবর্তী এবং কাউন্সিলর প্রীতি মজুমদার। সমগ্র অনুষ্ঠানটির পরিচালনায় ও সমন্বয়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন খোয়াইয়ের তথ্য ও সাংস্কৃতিক আধিকারিক রূপক কুমার আচার্য।
সন্ধ্যা নামতেই নজরুল মঞ্চের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে লালছড়া এলাকায় সাহিত্য ও সঙ্গীতপ্রেমী মানুষের ঢল নামে। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিভিন্ন সংগীত বিদ্যালয়ের শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে নজরুল গীতি পরিবেশন করা হয়। এরপর ‘কণ্ঠকুঞ্জ’ আবৃত্তি ও অভিনয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিল্পীদের সমবেত নজরুল কবিতা আবৃত্তি দর্শকাসনে মুগ্ধতা ছড়ায়। ‘নৃত্যাশ্রম’-এর শিল্পীদের পরিবেশিত নজরুল নৃত্যের কোরিওগ্রাফি ছিল এককথায় অসাধারণ।
অনুষ্ঠানের শেষলগ্নে এলাকার প্রতিভাবান তরুণ-তরুণী ও উদীয়মান নজরুল সঙ্গীত শিল্পীদের একক গানের আসর বসে। কঙ্কনা বিশ্বাস, সোহেনী গোপ, দিব্যেন্দু বণিক এবং মানালি পালের কণ্ঠে নজরুল গীতির সুরলহরী উপস্থিত শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধের মতো ধরে রাখে। খোয়াইয়ের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং বাঘাযতীন ক্লাবের এই সুন্দর যৌথ প্রয়াস মহকুমার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গোটা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি, নাট্যকার এবং বাচিক শিল্পী গণেশ দেবরায়।
