গোপল সিং, খোয়াই, ২২ জুন || খোয়াই সীমান্তে বিএসএফ ও পুলিশের কড়া নজরদারির মধ্যেই আবারো এক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার রাতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া খোয়াইয়ের ধলাবিল এলাকা থেকে ওই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্তে চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ রুখতে বিএসএফের পাশাপাশি সীমান্তের সাধারণ মানুষও যে কতটা সজাগ ও সতর্ক রয়েছেন, এই ঘটনা আরও একবার তার প্রমাণ দিল।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গতকাল রবিবার রাত আনুমানিক আটটা নাগাদ খোয়াই ধলাবিল সংলগ্ন এলাকায় এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবককে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। যুবকের কথাবার্তা ও চালচলনে অসঙ্গতি প্রকাশ পাওয়ায় স্থানীয় জনগণের মনে তীব্র সন্দেহ দানা বাঁধে। এরপরই ধলাবিলের জাগ্রত জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওই যুবককে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে আটকে রাখেন এবং সাথে সাথে খোয়াই থানার পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে খোয়াই থানার পুলিশ দ্রুত ধলাবিল সীমান্ত এলাকায় ছুটে আসে এবং স্থানীয়দের হাত থেকে ওই সন্দেহভাজন যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। থানায় এনে দীর্ঘক্ষণ ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে ধৃত যুবক স্বীকার করে যে সে ভারতের নাগরিক নয়, বরং আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ উপায়ে বাংলাদেশে থেকে ত্রিপুরায় প্রবেশ করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত বাংলাদেশি যুবকের নাম মনা কুমার দাস (৩০)। সে বাংলাদেশের রংপুর জেলার বাসিন্দা এবং তার প্রয়াত পিতার নাম বীরেন চন্দ্র দাস।
কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই কাঁটাতারের বেড়া গলে সে ঠিক কী উদ্দেশ্যে এবং কার মদতে খোয়াইয়ের ধলাবিল এলাকায় ঢুকেছিল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ধৃত মনা কুমার দাসকে গ্রেফতার করে গভীর তদন্ত শুরু করেছে। এর নেপথ্যে কোনো আন্তর্জাতিক অনুপ্রবেশ ও দালাল চক্র জড়িত রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী অফিসাররা।
