₹১৭-১৮ কোটি টাকার ইনজেকশনই শেষ ভরসা! বিরল রোগে আক্রান্ত ছোট্ট মানস্রীকে বাঁচাতে সাহায্যের আবেদন বাবা-মায়ের

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ২২ জুন || হাসিখুশি, চঞ্চল ছোট্ট মেয়ে মানস্রী চৌধুরী। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বর্তমানে সে লড়াই করছে এক বিরল ও জটিল জিনগত রোগের বিরুদ্ধে। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার হাঁপানিয়া এলাকার বাসিন্দা ধ্রুব চৌধুরী ও কৃষ্ণা ভট্টাচার্যের কন্যা মানস্রী আক্রান্ত হয়েছে স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রফি (Spinal Muscular Atrophy – SMA) নামে এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মানস্রীর শরীরে এই রোগ ধরা পড়ে। এরপর থেকেই নিয়মিত ফিজিওথেরাপি ও চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে সুস্থ রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তার বাবা-মা। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগে ধীরে ধীরে শরীরের পেশিশক্তি কমে যায় এবং শিশুদের স্বাভাবিক চলাফেরা, বসা, দাঁড়ানোসহ দৈনন্দিন কাজকর্ম ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ে।
বর্তমানে মানস্রী বেঙ্গালুরুর নিমহ্যান্স (NIMHANS)-এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. নলিনীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, মানস্রীর জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল জিন থেরাপি (Gene Therapy) প্রয়োজন, যা তার জীবনে নতুন আশার আলো দেখাতে পারে।
কিন্তু এই চিকিৎসার আনুমানিক ব্যয় প্রায় ১৭ থেকে ১৮ কোটি টাকা, যা একটি সাধারণ পরিবারের পক্ষে বহন করা কার্যত অসম্ভব।
অসহায় বাবা-মা এখন সমাজের মানবিক মানুষ, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিল্পপতি, দাতব্য সংস্থা এবং রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। তাদের একটাই আর্তি— “আমাদের মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন।”
মানস্রীর মা কৃষ্ণা ভট্টাচার্য বলেন,
“প্রতিটি ছোট সাহায্যও আমাদের মেয়ের চিকিৎসার পথে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। যারা আর্থিকভাবে সাহায্য করতে পারবেন না, তারা অন্তত আমাদের মেয়ের গল্পটি অন্যদের কাছে পৌঁছে দিন।”
ছোট্ট মানস্রীর নিষ্পাপ হাসি যেন থেমে না যায়—এই প্রত্যাশায় তার পরিবার আজ সমাজের সহানুভূতি ও সহযোগিতার অপেক্ষায় দিন গুনছে। মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো নতুন জীবন ফিরে পেতে পারে এই শিশুটি।
পরিবারের পক্ষ থেকে সাহায্যের জন্য যোগাযোগের নম্বর:
📞 +91 87948 43367
ঠিকানা: হাঁপানিয়া, সদর মহকুমা, পশ্চিম ত্রিপুরা।
“একটি ছোট্ট অনুদানও বাঁচিয়ে দিতে পারে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ।”

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*