সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ০৪ জুলাই || দক্ষিণ ত্রিপুরার গন্ডাছড়ায় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের গাড়িতে হামলার চেষ্টার ঘটনায় কৃষিমন্ত্রীর নির্দেশের পরও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় রইস্যাবাড়ি থানার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার দু’দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তরা এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ, যা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
জানা গেছে, গত ২ জুলাই গন্ডাছড়ার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র নারিকেল কুঞ্জে আয়োজিত রাজ্যভিত্তিক আম মেলার সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের বহনকারী একটি গাড়ির ওপর দুই দুষ্কৃতিকারী হামলার চেষ্টা চালায় এবং সাংবাদিকদের হেনস্থা করে। ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি করে।
ঘটনার খবর পেয়ে আম মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃষিমন্ত্রী রতন লাল নাথ পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন বলে জানা যায়। তবে অভিযোগ, মন্ত্রীর সেই নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় ৪ জুলাই পর্যন্তও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এদিকে, নারিকেল কুঞ্জ গন্ডাছড়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে সাংবাদিকদের ওপর প্রকাশ্যে হামলার চেষ্টা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়দের মতে, সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে সাধারণ পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ থেকেই যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রইস্যাবাড়ি থানার বিরুদ্ধে অতীতেও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে। কয়েক মাস আগে গন্ডাছড়া মহকুমা শাসকের দপ্তরের ডিসিএম দিলীপ দেববর্মা এবং তাঁর গাড়ির চালকের ওপর হামলার ঘটনাতেও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সফল হয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে একের পর এক ঘটনায় অভিযুক্তরা আইনের নাগালের বাইরে থেকে যাওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
এছাড়া সীমান্তবর্তী রইস্যাবাড়ি থানার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নেশাজাতীয় দ্রব্য, গরুসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণ মানুষের একাংশের দাবি, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় এখনও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে এই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জোরদার হচ্ছে।
