গোপল সিং, খোয়াই, ০৯ জুলাই || “দল যখন শূন্যে ছিল তখন ছিলেন বাবা, আজ দল ক্ষমতায় অথচ বাবা আজ ব্রাত্য!”—এই হেডলাইনে আমরাই প্রথম জনগণের সামনে তুলে ধরি যে খোয়াইয়ের প্রবীণ তথা আদি বিজেপি নেতা প্রমোদ রঞ্জন দাসের কন্যা ত্রৈনেত্রী দাস (মিঠু)-র সামাজিক মাধ্যমে আকুল আর্তনাদ করে তাঁর পিতার বর্তমান দূরবস্থা ক্ষোভের সাথে তুলে ধরেছে। সংবাদমাধ্যমে এই নিউজ প্রকাশিত হতেই তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয় রাজনৈতিক মহলে। অবশেষে সেই খবরের জেরে নড়েচড়ে বসল প্রদেশ বিজেপি নেতৃত্ব। খোয়াইয়ের শীর্ষ নেতৃত্বদের জরুরী তলব করা হলো আগরতলায়। গতকাল ত্রৈনেত্রীর জোরালো আওয়াজ খবরের মাধ্যমে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছানো মাত্রই আজ জিবি হাসপাতালে ছুটে গেলেন দলের রাজ্যস্তরের হেভিওয়েট নেতা থেকে শুরু করে খোয়াই জেলা ও মণ্ডলের একঝাঁক নেতৃত্ব। সামাজিক মাধ্যমে সংবাদ মাধ্যমেক ধন্যবাদ জানালেন প্রবীন বিজেপি নেতার মেয়ে ত্রৈনেত্রী দাস (মিঠু)। তিনি জানান, মিডিয়া সহযোগিতা পাবার পর আজ বিজেপি দলের রাজ্য নেতৃত্ব তাঁর পিতার সাথে সাক্ষাৎ করে খোঁজখবর নেন এবং সাহায্য করেন। আগামী দিনেও পাশে থাকার বার্তা দেন।
বুধবার প্রদেশ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, খোয়াই জেলার সভাপতি সমীর দাস এবং খোয়াই মণ্ডল সভাপতি অনুকূল দাস সহ একঝাঁক দলীয় নেতৃত্ব আগরতলার জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রবীণ বিজেপি নেতা প্রমোদ রঞ্জন দাসের শারীরিক খোঁজখবর নিতে যান। তাঁরা তাঁর শয্যাপাশে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান এবং পরিবারের সাথে চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে প্রদেশ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা জানান, “প্রদেশ সভাপতি অভিষেক দেবরায়ের বিশেষ নির্দেশে আজ খোয়াই জেলার বাসিন্দা, প্রবীণ বিজেপি নেতৃত্ব তথা এসসি মোর্চার প্রাক্তন প্রদেশ সহ-সভাপতি প্রমোদ রঞ্জন দাস মহোদয়ের সঙ্গে জিবি হাসপাতালে আমরা সাক্ষাৎ করি। তাঁর চলমান চিকিৎসার জন্য মাননীয় প্রদেশ সভাপতির পক্ষ থেকে একটি আর্থিক অনুদান ও সহযোগিতা তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। যদিও তিনি জানান প্রাথমিকভাবে কিছু সময় পূর্বে যখন প্রবীন নেতা প্রমোদ রঞ্জন দাস অসুস্থ হন, তখন আর্থিকভাবে উনাকে সাহায্য করা হয়েছিল খোয়াই মন্ডলের পক্ষ থেকে। কিন্তু পরবর্তী সময় তিনি শিলচর চিকিৎসা করানোর পর বাড়ী ফিরে আসেন। ফের অসুস্থ হলে, তাকে খোয়াই জেলা হাসপাতালে ভর্ত্তি করানো হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য জিবি স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময় উনার অসুস্থতার বিষয়ে খোয়াই মন্ডল, জেলা কমিটি কিংবা প্রদেশ বিজেপি অবহিত ছিলনা বা বিষয়টি জানানো হয়নি। যাইহোক, মিডিয়াতে ফলাও করে নিউজটি প্রকাশিত হবার পর সময় নষ্ট না করে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান প্রদেশ বিজেপি সাধারন সম্পাদক বিপিন দেববর্মা।”
এই ঘটনার পর প্রবীণ ও ত্যাগী কর্মীকে ধরে রাখতে বড়সড় মানবিক ঘোষণা করেছে ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপি। প্রদেশ সভাপতি অভিষেক দেবরায় মহোদয়ের তরফ থেকে পরিবারটিকে এই মর্মে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে—প্রমোদ রঞ্জন দাস মহোদয়ের জীবদ্দশায় তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজনে দলের পক্ষ থেকে এই আর্থিক সহযোগিতা আগামীদিনেও নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।
