গোপল সিং, খোয়াই, ০৯ জুলাই || বিশালগড় কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় মানসিক অবসাদে আত্মঘাতী বিশুরাই দেববর্মা ওরফে দিলীপ দেববর্মার অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন রামচন্দ্রঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। মৃত বন্দির পরিবারের জন্য পূর্বে নির্ধারিত ৪ লক্ষ টাকার সরকারি ক্ষতিপূরণ দ্রুত প্রদান এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্যারোল আটকে রাখার জন্য দায়ী জেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে ত্রিপুরা মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হলেন তিনি। এই মর্মে গত ৮ই জুলাই ২০২৬ তারিখে মানবাধিকার কমিশনের কাছে একটি দুই পাতার লিখিত আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা।
বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার চিঠিতে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩শে অক্টোবর ২০২৪ তারিখ ভোরে বিশালগড় সংশোধনাগারে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন বন্দি বিশুরাই দেববর্মা (দিলীপ)। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের দাবি, বিশুরাই দেববর্মার আত্মহত্যার প্রধান কারণ ছিল জেল কর্তৃপক্ষের তরফে তাঁকে ‘প্যারোল’ মঞ্জুর না করা। দীর্ঘদিন ধরে প্যারোল না পাওয়ায় তিনি চরম মানসিক অবসাদ ও বাধ্যবাধকতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। ঘটনার পর, ৯ই নভেম্বর ২০২৪ তারিখে বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা নিজে আইনজীবী পৌষালী দত্ত, ব্যক্তিগত সচিব অসিত কুমার দাস, সমাজসেবী এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি কুসরাংতি তিপ্রাসাকে সাথে নিয়ে বিশালগড় সংশোধনাগার পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনের সময় সংশোধনাগারের তদানীন্তন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট প্রসেনজিৎ দাস এবং সাব-জেলর নান্টু দাস তাঁদের জানান যে, ধর্ষণের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বন্দিরা প্যারোল পাওয়ার যোগ্য নন। তবে বিধায়কের অভিযোগ, এই দাবি সংক্রান্ত কোনো লিখিত সরকারি নিয়ম, ধারা বা আদেশ জেল কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেননি। এমনকি পরবর্তীতে লিখিত আবেদন করার পরেও আজ পর্যন্ত কোনো নিয়মাবলী বিধায়কের কাছে পাঠানো হয়নি। সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ বন্দি বিশুরাই দেববর্মাকে প্যারোলের আবেদন জমা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র বা পিটিশন ফর্মটুকুও সরবরাহ করেনি, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুর পর থেকে মৃত বিশুরাই দেববর্মার পরিবার চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। তাঁর বিধবা স্ত্রী দুলপতী দেববর্মা, নাবালক পুত্র এবং কন্যারা বর্তমানে অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় ভিলেজ চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট বিধায়কের পক্ষ থেকে তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের শংসাপত্র দেওয়া হলেও পরিবারটি এখনও পর্যন্ত কোনো আর্থিক সাহায্য পায়নি। তাই মানবিকতার খাতিরে এই অসহায় পরিবারটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পূর্বে নির্ধারিত চার লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ অবিলম্বে রিলিজ করার দাবি জানিয়েছেন বিধায়ক। সেই সঙ্গে কোনো বৈধ সরকারি আদেশ ছাড়াই একজন বন্দির প্যারোলের অধিকার খর্ব করার জন্য বিশালগড় সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মানবাধিকার কমিশনের কাছে জোর আবেদন জানানো হয়েছে। এখন দেখার, মানবাধিকার কমিশন এই চিঠির ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
