গোপল সিং, খোয়াই, ০৮ জুলাই || চলতি বর্ষার মরশুমে টানা কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে গোটা খোয়াই জেলা জুড়ে। খোয়াই শহরের জলনিষ্কাশন বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিকল হয়ে পড়ার দরুন এবার এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী থাকলেন খোয়াইবাসী। প্রবীণদের মতে, ১৯৮৩ সালে শেষবার খোয়াই সুভাষপার্ক বাজার জলের তলায় তলিয়ে গিয়েছিল। তারপর দীর্ঘ ৪৩ বছর বা চার দশক পার হয়ে গেলেও খোয়াই শহরের রাস্তা, বিশেষ করে সুভাষপার্ক চত্বর এভাবে ডুবতে নবীন প্রজন্ম এযাবতকাল কোনোদিন দেখেনি।
বর্ষার শুরু থেকেই জলনিষ্কাশনী ব্যবস্থার চরম গাফিলতির কারণে খোয়াই সরকারি দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তাটি জলমগ্ন হয়ে পড়ছিল। কিন্তু গত ক’দিনের টানা বর্ষণে সেই জমে থাকা জল উপচে এবার সরাসরি গড়িয়ে এসেছে সুভাষপার্ক পর্যন্ত। এর পাশাপাশি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে দুর্গাগনর মূল সড়কও। সমতল পদ্মবিল এলাকাতে রাস্তা ভেঙে গেছে। ধানক্ষেত যেন সমুদ্রের রূপ নিয়েছে। রাস্তার উওর দিয়ে জল ধেয়ে প্রবেশ করছে ধানক্ষেতে। কৃষকদের মাথায় হাত।
বর্তমানে খোয়াই শহরের রাস্তাঘাট ও ড্রেনগুলি আধুনিকীকরণের কাজ চলছে। কিন্তু স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এই আধুনিকীকরণের কাজ অত্যন্ত ধীরলয়ে ও কচ্ছপ গতিতে চলছে। ড্রেনেজ সিস্টেম পুরোপুরি বিকল হয়ে পড়ার ফলে আজ এই প্রথমবার সুভাষপার্ক কৃষ্ণমন্দির সংলগ্ন মূল সড়কটি সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে যায়।
এই চরম অব্যবস্থার খবর পেয়ে আজ স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ার জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শনে এলে তাঁর ওপর ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘক্ষণ ধরে দুই পক্ষের মধ্যেই তীব্র তর্কবিতর্ক ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও প্রশাসনের তরফ থেকে জল নিষ্কাশনের কোনো স্থায়ী সমাধান আজ অধরাই থেকে গেছে। ফলে ব্যবসায়ী মহলে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
টানা বর্ষণের জেরে খোয়াই নদীর জলস্তর হু হু করে বৃদ্ধি পেয়ে আজ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। নদী সংলগ্ন নিচু এলাকার একাধিক বাড়ি-ঘরে ইতিপূর্বেই বন্যার জল প্রবেশ করতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের তরফ থেকে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। যেকোনো ধরণের জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় মহকুমার বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ সতর্ক ও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গোটা খোয়াই জেলা জুড়েই এই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় থমকে গেছে সাধারণ মানুষের জনজীবন।
