গোপল সিং, খোয়াই, ০৯ জুলাই || খোয়াই জাম্বুরা এলাকায় সাহিত্য চর্চার প্রসার এবং নবীন প্রতিভাদের উৎসাহিত করতে এক মহতী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো। বুধবার খোয়াই জাম্বুরা পঞ্চায়েতের অধীন পেশায় শিক্ষিকা এবং সুপরিচিত কবি করুণা দেবনাথের বাসভবনে ‘প্রগতি সাহিত্যপত্র’র আনুষ্ঠানিক আবরণ উন্মোচন এবং ২০২৬ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা প্রদান বিষয়ক এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন চারা গাছে জল সিঞ্চনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। উদ্বোধনী পর্বে শতাব্দী গোপ সহ মহিলা কবি-সাহিত্যিকগণ একটি দেশাত্মবোধক সঙ্গীত পরিবেশন করেন এবং সংযুক্তা দেবনাথ একটি একক নৃত্য পরিবেশন করে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক সত্যব্রত দে এবং সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন সুব্রত আচার্য্য। অনুষ্ঠানের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্বে ‘প্রগতি সাহিত্যপত্র’ পরিচালনার জন্য ৭ জনের একটি উপদেষ্টা কমিটি এবং ১৭ জনের একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের পর উপস্থিত বিশিষ্টজনদের হাত ধরে ‘প্রগতি সাহিত্যপত্র’-এর প্রথম সংখ্যাটির আনুষ্ঠানিক আবরণ উন্মোচন করা হয় এবং উপস্থিত সবার হাতে এর একটি করে কপি তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয়ার্ধে কবি করুণা দেবনাথের নিজস্ব উদ্যোগে চলতি বছরের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। জাম্বুরা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার মোট ১১ জন কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে অতিথিরা সম্মাননা স্মারক ও একটি করে কলম উপহার হিসেবে তুলে দেন। সংবর্ধিত কৃতি ছাত্র-ছাত্রীরা হলো — সুশান্ত দেবনাথ, অন্তদীপ দেবনাথ ও দেবজ্যোতি সেন, রানা দেবনাথ, অরূপ দেবনাথ, সংযুক্তা দেবনাথ, স্বস্তিকা দেবনাথ, সুচিত্রা পাল, সুয়েতা গোপ, বুল্টি দেব ও রেশমী পাল। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে এক মনোজ্ঞ কবি সম্মেলনের সৃষ্টি হয়। এদিনের এই মননশীল অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান নীলিমা দেবনাথ, প্রাক্তন শিক্ষক সত্যব্রত দে, পার্থ চক্রবর্তী, স্বপন দেবনাথ, সুকুমার দেবনাথ প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শেষে কবি করুণা দেবনাথের পক্ষ থেকে উপস্থিত সবার জন্য মিষ্টি ও নৈশভোজের ব্যবস্থা করা হয়। আগামী দিনেও এই ধরণের সাহিত্য ও সামাজিক কাজের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে উদ্যোক্তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
