বিপৎসীমার দিকে ধাবমান খোয়াই নদী, ঘরবাড়ি ছেড়ে ত্রাণশিবিরে মানুষ, তলিয়েছে বিঘার পর বিঘা ধানক্ষেত, জারি হাই-অ্যালার্ট

গোপল সিং, খোয়াই, ০৯ জুলাই || গত কয়েক দিনের টানা প্রবল বর্ষণে খোয়াই জেলা জুড়ে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করছে। হু হু করে জলস্তর বাড়ছে খোয়াই নদীর। নদীর উপচে পড়া জল ইতিমধ্যেই নদী লাগোয়া শহর ও গ্রামের একের পর এক বাড়ি-ঘর এবং বিঘার পর বিঘা কৃষিজ জমিতে প্রবেশ করেছে। বন্যার জলে এলাকার বিস্তীর্ণ ধানক্ষেতগুলি বর্তমানে বিশাল জলাশয়ের রূপ ধারণ করেছে, যার ফলে চরম ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে। খোয়াইয়ের সমতল পদ্মবিল, পশ্চিম গণকী, সোনাতলা, ধলাবলি, চকবের সহ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বাড়ী-ঘর, কৃষিজ জমি জলের নীচে রয়েছে। অতি বৃষ্টির কারনে খোয়াই পুরপরিষদের ৩ নাম্বার ওয়ার্ডে ১৯টি পরিবারের বাড়ীঘরে জল ঢুকার কারণে হরকুমার অঙ্গনওয়াড়ী সেন্টারে সরকারী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। খোয়াই পশ্চিম গণকীর উত্তর পাড়ায় কিছু বাড়ি ঘরে নদীর জল ঢুকে যায় এবং ক্ষেতের ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে খোয়াই পুর পরিষদ সংলগ্ন নদীর আশপাশ এলাকার আতঙ্কিত মানুষজন নিজেদের ঘর-বাড়ী ফেলে রেখে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে প্রশাসনের তৈরি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ তৎপর রয়েছে এবং বুধবার রাতেই মাইকিংয়ের মাধ্যমে খোয়াই নদী লাগুয়া এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সতর্ক করে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ, বৃহস্পতিবারও খোয়াই নদীর জলস্তর ব্যাপক হারে বেড়েই চলেছে।
নদীর জলস্তর যেভাবে প্রতি ঘণ্টায় বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরও অবনতি হতে পারে। প্রশাসনের তরফ থেকে নদী তীরবর্তী এবং নিচু এলাকার সমস্ত বাসিন্দাদের সরকারি আপডেটের ওপর নজর রাখতে বলা হয়েছে। যেকোনো ধরণের জরুরি পরিস্থিতির জন্য সাধারণ মানুষকে মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা দল ও জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*