বলরাম দেবনাথ, সাব্রুম, ১৫ জুলাই || ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য নজির গড়ে উঠেছে দক্ষিণ ত্রিপুরার ঋষ্যমুখ বিধানসভার অন্তর্গত আমজাদ নগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে এই অঞ্চলে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পৃথকভাবে পালিত হলেও, এবারই প্রথম হিন্দু ও মুসলিম—দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একযোগে ঐতিহাসিক রথ মেলার আয়োজনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন।
মেলা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে স্থানীয় হিন্দু ও মুসলিম যুবকদের নিয়ে একটি সম্মিলিত উৎসব কমিটি গঠন করা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, দোকান বরাদ্দ, সাজসজ্জা থেকে শুরু করে সার্বিক প্রস্তুতির প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুই সম্প্রদায়ের সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করছেন।
সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার রথযাত্রা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্যোগে সম্পন্ন হবে। অন্যদিকে, মেলার মাঠের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং দূর-দূরান্ত থেকে আগত পুণ্যার্থীদের আপ্যায়নের দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, এই রথ মেলা শুধু ধর্মীয় উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। মেলাকে ঘিরে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হস্তশিল্পী ও বিক্রেতাদের আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
মেলা উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসন ও পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পানীয় জল, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দুই সম্প্রদায়ের যুবকদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মোতায়েন করা হবে।
আমজাদ নগরের প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, এই উদ্যোগ বর্তমান প্রজন্মের কাছে সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁদের কথায়, “উৎসবের কোনো ধর্মীয় সীমানা নেই; উৎসব মানুষকে মানুষে মিলিয়ে দেয়।”
ঋষ্যমুখের আমজাদ নগরের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শুধু ত্রিপুরাতেই নয়, সমগ্র দেশের কাছেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্যের এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
