উন্নয়নই সরকারের প্রধান এজেন্ডা, জনকল্যাণে নিরলস কাজ চলছে: মুখ্যমন্ত্রী

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৪ জুলাই || ত্রিপুরা সরকার রাজ্য ও জনগণের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নয়নের দর্শন অনুসরণ করেই কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান এজেন্ডাই উন্নয়ন। রাজ্য ও কেন্দ্র—উভয় ক্ষেত্রেই বিজেপি সরকার মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে।”
মঙ্গলবার গোমতী জেলার উদয়পুরের রাজর্ষি হলে জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে তিনি ১০৫.৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত ১১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত অর্থবর্ষে তিনি প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন এবং চলতি অর্থবর্ষে ইতোমধ্যেই ১২১ কোটি টাকারও বেশি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকার ১০ হাজার কোটি টাকা মূলধনী ব্যয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে বলেও তিনি জানান।
স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, সিওপিডি, ক্যান্সার, সিকেডি এবং অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজের মতো অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর হার বাড়ছে। ত্রিপুরাও এই চ্যালেঞ্জের বাইরে নয়। তাই ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে নাগরিকদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিংয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বছর ১৫ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সুস্থ ত্রিপুরা গড়ে তুলতে ‘মুখ্যমন্ত্রী নিরাময় আরোগ্য অভিযান’, ল্যাব নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ‘স্টপ ডায়রিয়া’ কর্মসূচির মতো উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় উন্নত পরীক্ষাগার সুবিধা গড়ে ওঠায় সাধারণ মানুষকে আর পরীক্ষার জন্য বাইরের ল্যাবরেটরির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে না।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সম্প্রতি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট একটি আধুনিক সিভিল হাসপাতাল চালু হয়েছে, যেখানে সব প্রয়োজনীয় বিভাগ ও ২৪ ঘণ্টার ওপিডি পরিষেবা রয়েছে। এই মডেল সফল হলে পর্যায়ক্রমে রাজ্যের বাকি ১৯টি পৌর ও নগর পঞ্চায়েত এলাকাতেও একই ধরনের হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। সরকারি হাসপাতালগুলিকে কর্পোরেট মানের পরিষেবা প্রদানের উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।
বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ-২০২৬’-এর সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই সম্মেলনে দেশ-বিদেশ থেকে ১,২০০-রও বেশি প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। ১ লক্ষ কোটি টাকার সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা ১.২১ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘হীরা’ মডেলের ফলে ত্রিপুরা বিনিয়োগের নতুন গন্তব্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের ফলে রাজ্যের জিএসডিপি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ত্রিপুরা ৩৫০টিরও বেশি জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, মন্ত্রী টিংকু রায়, বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার, সচিব কিরণ গিত্যে, সচিব পি. কে. চক্রবর্তীসহ প্রশাসনের অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*