সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ২৩ আগস্ট || গভীর রাতের অন্ধকারে এক বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তির জীবিকার একমাত্র সম্বল দোকানে অগ্নিসংযোগ করে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গন্ডাছড়া মহকুমায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গতকাল গভীর রাতে আনুমানিক রাত ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে গন্ডাছড়ার ৬০ কার্ড পুরাতন টাউন হল এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মালিক রবীন্দ্র বিশ্বাসের অভিযোগ, আগুন শর্ট সার্কিট থেকে লাগার সম্ভাবনা নেই। তাঁর দাবি, দোকানের বিদ্যুৎ বোর্ডটি ছিল ঘরের পেছনের দিকে, অথচ আগুন প্রথমে দোকানের সামনের অংশে দেখা যায়। পাশাপাশি ওই রাতে এলাকায় প্রবল বৃষ্টিপাত হওয়ায় শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা আরও কম বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে নৈশ টহলদারি দলের সদস্যরাও আগুন সামনের দিক থেকেই ছড়িয়ে পড়তে দেখেছেন। এসব বিষয়ের ভিত্তিতে দোকানে পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগ করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন রবীন্দ্র বিশ্বাস। তবে প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণ দোকানঘর পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভিতরে থাকা ফ্রিজ, আসবাবপত্র এবং যাবতীয় মালামালও আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দোকানঘর ও মালামাল মিলিয়ে প্রায় আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
চোখের পলকে জীবিকার শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে কার্যত সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন রবীন্দ্র বিশ্বাস। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি ও এলাকাবাসী অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে উপযুক্ত সরকারি ক্ষতিপূরণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবিও উঠেছে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে গন্ডাছড়া মহকুমার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় চুরি ও বিভিন্ন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধের প্রকৃত কারণ বা দোষীদের শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
