গন্ডাছড়া থানার ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন: চোর ধরল আগরতলা পুলিশ, অভিযোগ স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ২৩ আগস্ট || গন্ডাছড়া থানার নাকের ডগায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠলেও স্থানীয় পুলিশের নজরে ধরা পড়েনি এক যুবক। সম্প্রতি রাজধানী আগরতলায় সংঘটিত একটি বড়সড় চুরির ঘটনায় মনোরঞ্জন দাসপাড়া এলাকার ওই যুবককে চোরচক্রের অন্যতম মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করেছে আগরতলা পুলিশের একটি বিশেষ দল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গন্ডাছড়া থানার ভূমিকা ও গোয়েন্দা নজরদারি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গন্ডাছড়া ও সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও বহু ঘটনার এখনও কোনও কিনারা হয়নি। অথচ গন্ডাছড়ার বাসিন্দা এক যুবককে রাজধানীতে চুরির ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—রাজধানীর পুলিশ যদি ওই যুবকের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সন্ধান পেয়ে তাকে গ্রেফতার করতে পারে, তাহলে স্থানীয় থানার নজরদারি ব্যবস্থায় তিনি কীভাবে এতদিন অগোচরে রয়ে গেলেন?
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের আরও দাবি, গন্ডাছড়া থানার আওতায় পূর্বে ঘটে যাওয়া কয়েকটি অমীমাংসিত চুরির ঘটনার সঙ্গেও গ্রেফতার হওয়া যুবকের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হোক। তবে এ বিষয়ে এখনও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও নিশ্চিত তথ্য বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানার গোয়েন্দা তৎপরতা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব থাকলে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পুরনো অমীমাংসিত চুরির মামলাগুলিও নতুন করে খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, গন্ডাছড়া এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পাশাপাশি সাম্প্রতিক গ্রেফতারের সূত্র ধরে অতীতের চুরির ঘটনাগুলিও তদন্তের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে পুলিশের নজরদারি ও তদন্ত প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এখন দেখার বিষয়, আগরতলা পুলিশের এই গ্রেফতারের সূত্র ধরে গন্ডাছড়া এলাকার পূর্বের অমীমাংসিত চুরির ঘটনাগুলির কোনও নতুন সূত্র সামনে আসে কি না এবং স্থানীয় প্রশাসন এই অভিযোগগুলির বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*