গোপাল সিং, খোয়াই, ২৩ আগস্ট || টানা অবিরাম বর্ষণে ত্রিপুরাজুড়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। লাগাতার বৃষ্টির জেরে রাজ্যের বিভিন্ন নদ-নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হওয়ায় বহু মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হচ্ছে।
রাজধানী আগরতলার বলদাখাল এলাকাসহ বিভিন্ন নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। একইভাবে খোয়াই জেলাতেও বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় খোয়াই পুর পরিষদের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের লালছড়া হাউজিং কলোনিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায় চলে গেছে। দুর্গত বহু পরিবারকে বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে হয়েছে।
এদিকে হাওড়া নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় আড়ালিয়া ও প্রতাপগড় এলাকায় অসম-ত্রিপুরা জাতীয় সড়কের একটি অংশ জলের তলায় চলে গেছে। ফলে ওই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে যাতায়াত ব্যবস্থার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনও ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
খোয়াইয়ের বন্যাকবলিত পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এলাকায় পরিদর্শনে যান সমাজসেবী বিনয় দেববর্মা, খোয়াই পুর পরিষদের চেয়ারম্যান দেবাশীষ নাথ শর্মা, মণ্ডল সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন দাস এবং সভাপতি অনুকূল দাস। তাঁরা দুর্গত পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নেন।
অন্যদিকে, জাতীয় সড়ক প্লাবিত হওয়ার স্থানসহ সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে তদারকি করতে মাঠে নামেন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক এবং জীরানিয়া মহকুমা শাসকসহ প্রশাসনিক আধিকারিকরা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া এবং পরিস্থিতির ওপর নজরদারি রাখতে প্রশাসনিক ও সামাজিক স্তরে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। প্রবল বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছে প্রশাসন।
