গোপাল সিং, খোয়াই, ২৩ আগস্ট || ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে খোয়াই শহর থেকে চার বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে ওই বাংলাদেশি পরিবারকে আগরতলায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে খোয়াইয়ে আসা দুই ভারতীয় নাগরিককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং দুইজন শিশু রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গল সীমান্ত এলাকা দিয়ে ওই চার বাংলাদেশি নাগরিক বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করে খোয়াইয়ের বনবাজার ও আশারামবাড়ী এলাকা হয়ে খোয়াই শহরের দিকে আসে। এরপর আগরতলার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তারা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে খোয়াই সুভাষপার্ক পুলিশ ফাঁড়ির ওসি রঞ্জিত সরকারের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী অভিযান চালিয়ে শহর এলাকা থেকে তাদের আটক করে।
ধৃত বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে রয়েছেন প্রসেনজিৎ দাস (২৯), পিতা জয়কুমার দাস এবং তাঁর স্ত্রী পপি রানী দাস (২৬)। তাঁদের বাড়ি বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা থানার আনন্দপুর গ্রামে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁদের সঙ্গে থাকা দুই শিশুকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ওই বাংলাদেশি পরিবারকে আগরতলায় নিয়ে যাওয়ার জন্য খোয়াইয়ে উপস্থিত হওয়া দুই ভারতীয় নাগরিককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা হলেন রাজেন্দ্র দাস (৪৮), পিতা প্রয়াত শুকলাল দাস, লঙ্কামুড়া (নাথপাড়া), বিমানবন্দর থানা এবং দীপন দাস (৪৭), পিতা রামমোহন দাস, কালিকাপুর (মিনাবাড়ি), পশ্চিম আগরতলা থানা এলাকার বাসিন্দা।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, ধৃত দুই ভারতীয় নাগরিক আগরতলার বাসিন্দা এবং বাংলাদেশি পরিবারটির আত্মীয়। তাঁদের নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই তাঁরা খোয়াইয়ে এসেছিলেন বলে জানা গেছে।
পাসপোর্ট ও বৈধ নথিপত্র ছাড়া বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে খোয়াই থানার পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সীমান্ত পারাপারের পেছনে কোনো চক্র কাজ করছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
