গোপাল সিং, খোয়াই, ১২ সেপ্টেম্বর || ত্রিপুরার রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ, প্রাক্তন বিধায়ক তথা তিপ্রা সিটিজেন্স ফেডারেশনের (TCF) আহ্বায়ক তাপস দে আর নেই। শুক্রবার গভীর রাতে, রাত ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর তাঁর প্রয়াণে ত্রিপুরার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রবীণ এই জননেতার মরদেহে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিপরা মথার বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। এদিন তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে রাজনৈতিক জীবনে তাপস দে-র অবদান ও জনসেবার কথা স্মরণ করেন বিভিন্ন মহলের প্রতিনিধিরা।
তাপস দে-র রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিল দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। ১৯৬৫ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে শরণার্থী হিসেবে ত্রিপুরায় আসার পর ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে তিনি তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সালগড়া কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে রাজ্যের অন্যতম সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক হিসেবে তিনি নজর কাড়েন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রদেশ কংগ্রেসের সহ-সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছেন। পরবর্তীতে তিপরা মথায় যোগ দিয়ে জাতি-উপজাতি সৌহার্দ্য ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বয়সের ভার তাঁকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে পারেনি। এরই প্রমাণ হিসেবে ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৮১ বছর বয়সে মোহনপুর কেন্দ্র থেকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
রাজনৈতিক মহলে তাপস দে তিপরা মথার সুপ্রিমো প্রদ্যোৎ কিশোর মাণিক্য দেববর্মার অন্যতম ঘনিষ্ঠ পরামর্শদাতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁর অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হয়।
তাপস দে-র প্রয়াণে ত্রিপুরা হারাল এক অভিজ্ঞ, প্রবীণ ও বর্ণময় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক স্তরে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
