উৎসবের মুখে আগরতলায় নিষিদ্ধ বাজি রুখতে যৌথ টাস্ক ফোর্সের অভিযান, সেন্ট্রাল রোড ও কামান চৌমুহনীতে বাজির দোকানে তল্লাশি, বৈধ লাইসেন্স ও মজুত খতিয়ে দেখল প্রশাসন

গোপাল সিং, খোয়াই, ১০ সেপ্টেম্বর || আসন্ন দুর্গোৎসব ও দীপাবলিকে সামনে রেখে বেআইনি ও নিষিদ্ধ শব্দবাজির মজুত এবং বিক্রি রুখতে আগরতলায় বড়সড় অভিযান চালাল সদর মহকুমা প্রশাসনের নেতৃত্বাধীন যৌথ এনফোর্সমেন্ট টিম। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্যস্ততম সেন্ট্রাল রোড, কামান চৌমুহনী এবং সংলগ্ন বাণিজ্যিক এলাকায় বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরো বাজির দোকানে আচমকা তল্লাশি চালানো হয়।
সদর মহকুমা শাসক দপ্তরের নির্দেশে গঠিত বিশেষ টাস্ক ফোর্সের নেতৃত্বে ছিলেন ইন-চার্জ অ্যাডিশনাল এসডিএম (সদর) অনিন্দ্য চক্রবর্তী। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সদরের এসডিপিও, পূর্ব আগরতলা থানার ওসি কৃষ্ণধন সরকার, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের জুনিয়র বিজ্ঞানী গৌতম ঘোষ, খাদ্য ও জনসংভরণ দপ্তরের চিফ ইন্সপেক্টর জতন দাস ও শর্মিষ্ঠা দাস, লিগ্যাল মেট্রোলজি ইন্সপেক্টর রজত দেববর্মা এবং আগরতলা পুরনিগমের টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় সদর মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে যৌথ টিমের সদস্যদের নিয়ে ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এরপরই শুরু হয় অভিযান। বিভিন্ন বাজির দোকানে বেআইনি বা নিষিদ্ধ বাজি মজুত করা হয়েছে কি না, ব্যবসায়ীরা বৈধ লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছেন কি না এবং Explosives Act, 1884 ও Explosives Rules, 2008-এর নির্ধারিত শর্ত মেনে বাজি সংরক্ষণ ও বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়।
পাশাপাশি দোকানগুলিতে বাজির মজুত, বিক্রির পদ্ধতি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রও পরীক্ষা করেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা। জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাজি মজুত করা কিংবা নিষিদ্ধ শব্দবাজি বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
উৎসবের মরশুমে বাজির বাজারে যাতে কৃত্রিম সংকট, কালোবাজারি কিংবা অন্যান্য অনিয়ম তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রশাসনের এই আকস্মিক ও সমন্বিত অভিযানে রাজধানীর বাজি ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আগামী দিনগুলিতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*