গোপাল সিং, খোয়াই, ২২ সেপ্টেম্বর || গুরুত্বপূর্ণ এডিসি ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, সীমান্তবর্তী ধনপুর বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক উত্তাপ ততটাই তুঙ্গে উঠছে। মঙ্গলবার প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা ত্রিপুরার অত্যন্ত জনপ্রিয় জননেত্রী প্রতিমা ভৌমিক—যাকে সবাই ভালোবেসে ‘দিদি’ বলে ডাকেন—একটার পর একটা সভা, মিছিল, কৌশলগত বৈঠক ও আবেগময় জনসংযোগের মাধ্যমে মাঠ কাঁপিয়ে তোলেন। তাঁর এই বহুমুখী উপস্থিতি সমগ্র সোনামুড়া অঞ্চল জুড়ে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে অভূতপূর্ব উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে।
দিনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণটি ছিল ধনপুর কেন্দ্রের ব্যস্ত মনাইপাথর বাজারে আয়োজিত এক সুবিশাল রেলী। পাহাড় ও সমতলের অসংখ্য সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে মিছিল থেকে আওয়াজ ওঠে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান। প্রতিটি বৈঠকেই প্রতিমা ভৌমিক শান্তি, সম্প্রীতি ও ধারাবাহিক উন্নয়নের বার্তা দেন। তিনি ত্রিপুরাবাসীর সার্বিক বিকাশ অক্ষুণ্ণ রাখতে বিজেপি প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জয়ী করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন একটি ভোট মানেই রাজ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।
ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিমা ভৌমিক চার স্তরের এক নিরবচ্ছিন্ন প্রচারণা চালান, যা সমাজের প্রতিটি শ্রেণিকে ছুঁয়ে গেছে। দিনের শুরুতে তিনি উত্তর তৈবান্দাল বাজারে স্থানীয় অটো-রিক্সা চালকদের সাথে এক উষ্ণ ও ঘনিষ্ঠ বৈঠকে মিলিত হন। পরিবহন শ্রমিকদের নানা সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার পাশাপাশি তিনি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমুখী পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদের আশ্বস্ত করেন। এরপর চান্দুলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নারী, আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং সামাজিক নেতৃত্বদের সাথে আলোচনা করেন। গ্রামীণ রূপান্তরে নারীদের অগ্রণী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান যে বিজেপি সরকার সর্বদা নারী ক্ষমতায়নকে শাসনব্যবস্থার মূল কেন্দ্রে রেখেছে।
পরবর্তীতে তিনি পুনরায় উত্তর তৈবান্দালে দলীয় কার্যালয়ে ফিরে এসে সমস্ত প্রার্থী ও বুথ স্তরের কর্মীদের নিয়ে এক রুদ্ধদ্বার সাংগঠনিক বৈঠক করেন এবং প্রতিটি বুথে জয়ের জন্য একটি নিখুঁত ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে দেন। দিনের শেষভাগে থলিবাড়িতে উপস্থিত হয়ে তিনি দলীয় প্রার্থী ও সক্রিয় কর্মীদের সাথে এক কৌশলগত আলোচনায় অংশ নেন, যাতে প্রতিটি বুথে বিজয়ের ব্যবধান নিশ্চিত করা যায়।
নির্বাচনের এই শেষ মুহূর্তে এসে অটো চালক থেকে শুরু করে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নারী এবং সাধারণ কর্মীদের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিমা ভৌমিক প্রমাণ করেছেন যে তিনি কেবল নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন না, বরং উন্নয়ন ও বিশ্বাসের এক বিশাল আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
